১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে বিনিয়োগকারী খুঁজছে ডিপসিক

১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে বিনিয়োগকারী খুঁজছে ডিপসিক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০০  

এআই শিল্পে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী চীনা স্টার্টআপ ডিপসিক প্রথমবারের মতো বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে অর্থায়ন খুঁজছে। মার্কিন প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশনের খবরে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে কমপক্ষে ৩০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে ।

‘নো টাচ’ নীতি থেকে বেরিয়ে আসা
এর আগে কখনও বাইরের অর্থ না নেওয়া ডিপসিকের জন্য এটি একটি বড় নীতি পরিবর্তন। ২০২৩ সালে চীনের হুয়াফাং কোয়ান্টিটেটিভ নামের একটি কোয়ান্টিটেটিভ হেজ ফান্ডের সহায়তায় যাত্রা শুরু করে ডিপসিক। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং এর আগে বারবার বাইরের বিনিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, চেয়েছিলেন ডিপসিককে স্বাধীন ও বাণিজ্যিক চাপমুক্ত রাখতে।

তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলেছে। ডিপসিকের আগের মডেল আর১-এর সাফল্যের পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন মডেল ভি৪ আনতে দেরি হওয়া, শীর্ষ গবেষকদের অন্য কোম্পানিতে চলে যাওয়া এবং এআই মডেল তৈরির ক্রমবর্ধমান খরচ—এই তিন কারণে ডিপসিককে অর্থায়নের পথে হাঁটতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মূল্যায়ন ও বিনিয়োগকারীদের অবস্থান
১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন এআই স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ডিপসিককে একটি শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যাবে। তুলনামূলকভাবে, সম্প্রতি ওপেনএআই ৩০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে অর্থায়ন সম্পন্ন করেছে।

তবে ডিপসিক চীনা কোম্পানি হওয়ায় মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালেও দ্বিধাগ্রস্ত। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে অনেকেই পা টেনে টেনে এগোচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ডিপসিকের মূল বিনিয়োগ আসবে চীনা প্রতিষ্ঠান থেকেই।

ভি৪ মডেল নিয়ে জটিলতা
আর১ মডেলের মাধ্যমে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বৈশ্বিক এআই বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল ডিপসিক। কিন্তু তার পর থেকে ডিপসিকের তেমন নতুন কিছু আসেনি। পরবর্তী মডেল ভি৪-এর মুক্তি কয়েক দফা পিছিয়েছে। দেরির কারণ হিসেবে হুয়াওয়ের চিপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মডেলটি তৈরি করাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা । গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডিপসিককে হুয়াওয়ের চিপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর আগে তারা এনভিডিয়ার চিপ ব্যবহার করত।

গুরুত্বপূর্ন গবেষকদের ধরে রাখতে না পারা
ভি৪ দেরি হওয়া ছাড়াও ডিপসিক তাদের গুরুত্বপূর্ণ দুই গবেষককে হারিয়েছে। আর১ মডেলের অন্যতম স্থপতি লুও ফুলি সম্প্রতি জিওমিতে যোগ দিয়েছেন। অপর গবেষক গুও দাইয়া চলে গেছেন বাইটড্যান্সে । এই গবেষকরা প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রাণ ছিলেন। তাদের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে এবং নতুন করে মেধাবীদের ধরে রাখতে অর্থের প্রয়োজন।

অর্থায়ন সফল হলে ডিপসিক আরও শক্তিশালী এআই মডেল তৈরিতে মনোযোগ দিতে পারবে এবং গবেষকদের ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু এই অর্থায়ন ডিপসিকের ‘স্বাধীন ও বাণিজ্যিক চাপমুক্ত’ সেই পুরনো পরিচয়কে বদলে দেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: রয়টার্স