৩১ মার্চ বিশ্ব ব্যাকআপ ডে কেন জরুরী?
৩১ মার্চ বিশ্ব ব্যাকআপ দিবস। ডিজিটাল ডিভাইসে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্যের ব্যাকআপ নেওয়ার ব্যাপারে সচেতন করতে ১ এপ্রিল বা ‘এপ্রিল ফুল’ এর আগের দিন পালন করা হয় বিশ্বজুড়ে।
অবশ্য বাংলাদেশে দিবসটি এখনও ততটা পারিচিত তাই মজা করে হলেও যেন ডাটা ব্যাকআপ না করলে একদিন বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে বিষয়টি মনে গেঁথে দেয়া যায় তা নিয়ে সচেতন করতে নেটদুনিয়ায় চলছে সচেতনতা কর্মসূচি। স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু রাখা, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ক্লাউডে আপলোড করা বা একটি এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভে কপি করে রাখুন ইত্যাদি বার্তা প্রচার করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাটা হারানোর অন্যতম বড় কারণ হলো হার্ডওয়্যার ত্রুটি। হার্ডড্রাইভ ক্র্যাশ, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ডিভাইস নষ্ট হওয়া কিংবা সফটওয়্যার ত্রুটি এসব কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হারিয়ে ফেলেন। আবার ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আক্রমণেও ডাটা মুছে যেতে পারে। গবেষণা বলছে, প্রতি ১০টি কম্পিউটারের মধ্যে অন্তত একটি কোনো না কোনো ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।
আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো স্মার্টফোন হারানো বা চুরি হয়ে যাওয়া। আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত ছবি, মেসেজ, ব্যাংকিং তথ্য, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অফিস নথিও সংরক্ষিত থাকে। ফলে ফোনটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি ডিভাইস নয়, পুরো ডিজিটাল জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থা থেকে নিরাপদ রাখতে ডাটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা একটি জনপ্রিয় কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যাকে বলা হয় ৩-২-১ ব্যাকআপ নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ডাটার অন্তত তিনটি কপি রাখতে হবে। দুটি ভিন্ন ধরনের স্টোরেজে সেই ডাটা সংরক্ষণ করতে হবে। এবং একটি কপি অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। এতে করে একটি ডিভাইস নষ্ট হলেও অন্য কপির মাধ্যমে তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৫০-এর দশকে প্রথম দিকের কম্পিউটারগুলোতে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহার করা হতো। পরে ১৯৬০-এর দশকে আইবিএম তাদের টেপ ড্রাইভ প্রযুক্তি উন্নত করে, যা মেইনফ্রেম কম্পিউটারগুলোর ডাটা সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
১৯৬৯ সালে আরপানেট চালু হওয়ার পর গবেষকরা দূরবর্তী কম্পিউটারে ডাটা সংরক্ষণের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে অফসাইট ও রিমোট ব্যাকআপ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের যুগে ব্যাকআপ আরও সহজ হয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে এমএস-ডস এ প্রথমবারের মতো বিল্ট-ইন ব্যাকআপ কমান্ড যুক্ত করা হয়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও সহজে ফাইল সংরক্ষণ করার সুযোগ দেয়।
ডিবিটেক/এনএ/ইকে



