নির্বাচনে প্রচার ব্যয়ের এক দশমাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করেছেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনে প্রচারে মোট ব্যয়ের প্রায় এক দশমাংশ টাকা অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেছেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রচারণার জন্য এই মাধ্যমটিতে তিনি খরচ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। অফলাইন-অফনলাইন মিলিয়ে এই খাতে মোট ব্যয় করেছেন সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয়।
নির্বাচিত হওয়ার নির্ধারিত সীমার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে প্রধানমন্ত্রীর জমা দেওয়া নির্বাচনি ব্যয় রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ খরচ হয়েছে এজেন্ট ও অন্যান্য স্টাফ খাতে, যার পরিমাণ ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ৬৬ হাজার টাকা এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল প্রচারণার অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া পরিবহন বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, জনসভা আয়োজনের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা।
৩০ মার্চ, সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, এবং এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তারেক রহমানের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট রয়েছে। নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্ল্যাড প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তার অবস্থান ছিলো ৬৩ নম্বরে।
ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭। সেই হিসাবে ভোটার পিছু প্রায় ৭ টাকা ব্যয় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অথবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা—এই দুয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় নির্ধারিত এই সীমার মধ্যেই রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব (ফরম-২২) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ১১ মার্চ রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেন তার নির্বাচনি এজেন্ট।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে নির্ধারিত ফরমে হলফনামাসহ এই রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং এর অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা না দিলে জরিমানাসহ দুই বছর থেকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
এ নিয়ে ইসির যু্গ্ম-সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২) মো. মঈন উদ্দীন খান জানিয়েছেন, আইন মেনে প্রার্থীরা ব্যয় রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আরপিও অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানাগেছে, এরই মধ্যে ডাকযোগে আসতে শুরু করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব। মাঠ কর্মকর্তারাও ইসি সচিবালয়ে নির্ধারিত ছকে তথ্য দিচ্ছেন। এসব তথ্য একীভূত করে তা চূড়ান্ত করতে ইসি’র একটু সময় লাগছে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম



