মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ফেসবুক লাইভে এমপি’র অভিযোগ

ফেসবুক লাইভে এমপি’র অভিযোগ
৮ মার্চ, ২০২৬ ২৩:৩৬  

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার বিলেও চাঁদাবাজি চলছে। এর প্রতিবাদ করায় খোদ সংসদ সদস্যের ওপর হামলা করেছেন সুবিধাভোগীরা। এতে ওই সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা এক তরুণ আহত হয়েছে বলেও জানান ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন।

৮ মার্চ, পড়ন্ত বিকেলে মসজিদ থেকেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এমন অভিযোগ করেন আব্দুল বাতেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় নিজ কার্যালয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামি থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রত্যাশা করেন, শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া’র দল গণতান্ত্রিক চর্চায় আগামীতে কোনো বাধা দেবে না।  

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন অভিযোগ করেন, সৌহার্দপূণ্য কাজের সম্পর্ক বজায় রাখতে বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারি দলের পরাজিত সংসদ সদস্য প্রার্থীর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তিনি সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি তাকে খুদে বার্তা দিয়ে ও লোক মারফত খোঁজ দিলেও তিনি তাকে সুযোগ দেননি। উপরন্তু তার অফিসিয়াল ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়। ইফতারের জন্য ফিরে যাওয়ার সময় বাইরে বের হলে আমাকেসহ রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার এডিসি-কে লক্ষ করে ডিম ছোঁড়া হয়।        

এমপি আব্দুল বাতেন বলেন, আমি ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। নির্বাচনের পর থেকে লক্ষ্য করছি, আমি যেখানেই যাচ্ছি, আমার প্রতিপক্ষ দল বা পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি আমি মসজিদে গেলেও সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাইরে যেকোনো কর্মসূচিতে গেলেও একই ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর থেকে আমি দায়িত্বের অংশ হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ট ব্লকের ইসরাফিল হাইস্কুলের একটি মার্কেট দখল করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছে এলাকার স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। সেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবব দলের বহিঃস্কৃত নেতা হারুনের নেতৃত্বে বিশ্রি শ্লোগান এবং আমার ও আমার সঙ্গীদের ওপর ঢিল ও ডিম নিক্ষেপ করে। ২৩ ফেব্রুয়ারি দুয়ারি পাড়াতেও স্থানীয় ভাবে মাঠা শফিকের নেতৃত্বে  এইক সমস্যা তৈরি করে। গত এক সপ্তাহে বাউনিয়া এলাকার সি ব্লকের পানির সমস্যা সমাধানে কাজ করতে গেলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। আজকেও আমি বিকেলে সেখানে পানির সমস্যা দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও বাধা দেওয়ার খবরে আমি যাইনি। তবে সেখানে সমবেত আমাদের ৪-৫জন কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। ২জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। সেখানে আসলাম গাজী, মোতালেব ও আলিম রিয়াজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে আমি ৭ নম্বর সেকশনের মল্লিকা মসজিদে নামাজ পড়তে যাই। সেখানে গিয়ে আমি নামাজ শেষে উঠে মসজিদে কথা বলতে গেলে আমাকে বাধা দেয়া হয়।   

এর আগে অপর ফেসবুক লাইভে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আগের মতোই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি—মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং দায়িত্ব পালনে তাদের সহযোগিতা চাইছি। কিন্তু প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই অযৌক্তিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আজ নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপনগর থানার চলন্তিকা মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত মল্লিকা মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে এসেছিলাম। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সালাম দেওয়ার পরই আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়। মসজিদের ভেতরে হঠাৎ করেই একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। আমার মনে হয়েছে, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এখানে এসেছিল এবং আমাকে কথা বলতে না দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, এখনও আমি মসজিদের ভেতরেই অবস্থান করছি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সঙ্গীকে মারধর করা হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন। আমার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একাধিক মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

এমপি বলেন, আমি বুঝতে পারছি না, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আমি একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জনগণের কাছে যাওয়াটা আমার দায়িত্ব। আমি মানুষের কাছে যাব, তাদের সমস্যা-অভিযোগ শুনব—এটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে ময়লা অপসারণের নামে ১০০, ১২০ বা ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়, অথচ যারা ময়লা পরিবহন করেন তারা পান মাত্র ৪০ টাকা। বাকি অর্থ স্থানীয় কিছু নেতা ভোগ করেন। এই বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করছে।

এর প্রতিকার চেয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, আজ আমার সঙ্গে পুলিশও ছিল, কিন্তু তাদের আচরণ সন্তোষজনক ছিল না। বরং তারা আমার সঙ্গীদেরই নিবৃত করার চেষ্টা করেছে। এতে হামলাকারীরা আরও সুযোগ পেয়েছে।

তিনি বলেন, আমার পাশে থাকা এক তরুণকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এটি কোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকেও ক্যামেরা, ঘড়ি ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকেও মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি যেকোনো মসজিদে যেতে পারি, মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলতে পারি—এটি আমার অধিকার। আমি প্রতিদিনই এমন গণসংযোগ করছি এবং অন্য কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। এখানে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটি আমি বুঝতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, এমনকি একজন আমাকে বলেছে, স্যার, আপনি এখান থেকে বের হয়ে যান, না হলে আমার চাকরি থাকবে না। প্রশ্ন হলো, কার চাকরি, কার কাছে দায়বদ্ধতা, কার ইশারায় এসব ঘটছে—এসব প্রশ্নের উত্তর আমি প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।

এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কারা ইন্ধন দিচ্ছে, সেটিও তদন্ত করে বের করা উচিত বলে উল্লেখ করেন এমপি। তিনি বলেন, আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা আমার ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে এবং হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

ডিবিটেক/এফবিপি/এমইউএম