নারী দিবসে গ্রামীণফোনের প্রাক্তন কর্মীদের সংহতি কর্মসূচি: ৫% বকেয়া আদায়ের দাবি

নারী দিবসে গ্রামীণফোনের প্রাক্তন কর্মীদের সংহতি কর্মসূচি: ৫% বকেয়া আদায়ের দাবি
৮ মার্চ, ২০২৬ ২২:৩৬  

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামনে জিপি হাউজের সামনে ‘৫% চত্বর’-এ একটি শান্তিপূর্ণ সংহতি কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রামীণফোনের প্রাক্তন কর্মীরা। ‘অধিকার রক্ষায় অপ্রতিরোধ্য নারী শক্তি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে নারী ও পুরুষ প্রাক্তন কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেন। 

৮ মার্চ, রবিবার গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এই সংহতি কর্মসূচি পালন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই সংহতি সমাবেশে ৩০ জন সাবেক কর্মী অংশ নেনে। এতে নারী কর্মীরা স্বতন্ত্র্য ভাবে ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নারী দিবসে স্মরণ করি ‘লজ্জা গ্রামীণফোন’ ভর্ৎসনা উচ্চারণ করে সমবেত নারীরা সাফ জানিয়ে দেন, যতদিন পর্যন্ত তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হচ্ছে, ততদিন তাদের এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অব্যাহত থাকবে । সত্য ও ন্যায়ের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তারা তাদের এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

২৫ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচারণ করে সংহতি সমাবেশ নিয়ে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) কমিউনিকেশন সেক্রেটারি আদিবা জেরিন চৌধুরী বলেন, নারী দিবস কোনো উদযাপন নয়, বরং একটি বাস্তব উপলব্ধি। কোনো প্রতিষ্ঠানের উচিত নারী দিবসের মাহাত্ম্য ঘোষণার আগে কর্মীদের মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, নৈতিক অনুশীলন এবং সহানুভূতির নিশ্চয়তা দেওয়া ও সেই অনুযায়ী কাজ করা। ন্যায্য পাওনা দাবি করলে জলকামান, গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করে নারী দিবস উদযাপন করা কর্পোরেট ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

গ্রামীণফোনের এই ভণ্ডামীর অবসান না হলে প্রয়োজনে ঈদের পর লাগাতার কর্মসূচির মাধ্যমে জিপি হাউজ অবরোধ করার ঘোষণা দেয়া হয় সংহতি সমাবেশ থেকে।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা সর্বাত্মক ভাবে এই কর্মসূচি পালন করবেন জানিয়ে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাদাত মোঃ শোয়েব জানান, গত ১৫ মাস ৭দিন ধরে তারা টানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সকল অধিদপ্তর ও নীতি নির্ধারকরা জানলেও অদৃশ্য কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি নিয়ে কেউ কর্নপাত করেনি। এখন নির্বাচিত সরকার বিষয়টি সিরিয়াসলি নেবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। 

তিনি বলেন, পাওনা ৫ শতাংশ বিলম্ব জরিমানা আদায়ের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছি। ২৫ ফেব্রুয়ারির ন্যাক্কারজনক হামলার দিবস পালনের পর ওই দিনে নারীদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে আজকের এই প্রতিবাদ সংহতি গুরুত্ববহ। বিশ্বব্যাপী যখন নারীর মর্যাদা ও অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, তখন একটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের এই সংগ্রাম কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়; বরং এটি ন্যায্য অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি লড়াই । তারা বিশ্বাস করেন যে, কেবল সংলাপ এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই এই দীর্ঘদিনের বকেয়া সমস্যার সমাধান সম্ভব । 

প্রসঙ্গত, এই আন্দোলনের একটি বড় পটভূমি তৈরি হয়েছিল গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি । সেদিন জিপি হাউজের সামনে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে লাঠিচার্জ ও জলকামান প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছিল । সেই ঘটনায় ৩ জন শিক্ষিত ও সম্মানিত নারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৯ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আজকের কর্মসূচিতে বক্তারা সেই দিনের ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান । তারা মনে করেন, একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোনের উচিত মানবিক আচরণ করা এবং এই সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও ন্যায্য সমাধানের পথে এগিয়ে আসা। 

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম