এআই নীতিমালায় নারী-শিশুর সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের দাবি
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি এআই নীতিমালায় তাদের অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তি, স্টেম শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং চূড়ান্ত নীতিমালায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মত খাত সংশ্লিষ্টদের।
২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং এআই নীতিমালা নিয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এমন অভিমত উঠে আসে বক্তাদের কন্ঠে। আইসিটি বিভাগ একক ভাবে না করে এরসঙ্গে মহিলা ও শিশু অধিদপ্তর এবং আইনমন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভূ্ক্তির দাবি জানান তারা।
সেমিনার সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী। তিনি স্বাগত বক্তব্যে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রেক্ষাপটে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিগত সুরক্ষা ও কার্যকর আইনগত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় এআই নীতিমালা ২০২৬-২০৩০’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এআই গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ ক্যালভিন ডাফ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের সিংহভাগই নারী, তারা এআই অটোমেশনের কারণে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বা আইনগত এআই-কে যদি ঢালাওভাবে 'উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে।
ক্যালভিন ডাফ আরও বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ এবং উপাত্ত সুরক্ষা আইন (PDPO) ইতিমধ্যেই সেক্সটর্শন বা ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষম। তাই নতুন কোনো জটিল আইনের চেয়ে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগই নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।” তিনি এআই-এর প্রতিটি সিদ্ধান্তে মানুষের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক না করে এটিকে ব্যবহারকারীর 'অধিকার' বা 'অপ্ট-ইন' হিসেবে রাখার প্রস্তাব দেন।
একই সেশনে প্রযুক্তি, আইন ও নীতির সমন্বিত প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন এআই গভর্ন্যান্স ও টেক ল’ বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ক্রিস্টাবেল র্যান্ডলফ। ইয়েল ল স্কুলের ইনফরমেশন সোসাইটি প্রজেক্টের ফেলো ড. সালওয়া হক প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা এআই ব্যবহারে ঝুঁকি, সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী-শিশু সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে মতামত বিনিময় করেন। এসময় সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএএফ) উপদেষ্টা প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (BNWLA) লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক দীপ্তি শিকদার, নারীপক্ষ সদস্য ফেরদৌসী আখতার, গবেষক নাজিবা বাশার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নারী ও শিশুদের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট ও ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন (সিএসডব্লিউসি) প্ল্যাটফর্ম’-এর ফোকাল পারসন মনীষা বিশ্বাস।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আলোচনা এআই নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী-শিশু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ডিবিটেক/এসএ/এমইউএম







