চীনের বাজার উন্মুক্ত করতে এনভিডিয়া প্রধানকে নিয়ে বেইজিং সফরে ট্রাম্প
বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমন এবং স্থবির হয়ে পড়া বাজার পুনরায় চাঙ্গা করার লক্ষে এক উচ্চাভিলাষী সফরে চীন পৌঁছাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বেইজিংয়ে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াং। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বুধবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জেনসেন হুয়াং-এর উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শি জিনপিংয়ের কাছে তার প্রথম অনুরোধই হবে চীনের বাজার ‘উন্মুক্ত’ করা, যাতে এনভিডিয়া-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক এআই চিপ সেখানে বিক্রি করতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে এনভিডিয়া তাদের শক্তিশালী এইচ২০০ চিপ চীনে বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে নিজ দেশে ট্রাম্পের জনসমর্থন কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরা ট্রাম্পের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সফরের মাধ্যমে ট্রাম্প চীনের কাছে মার্কিন কৃষিপণ্য ও বোয়িং বিমান বিক্রির বড় চুক্তি করতে চাইছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।
আলোচনার টেবিলে যত কঠিন ইস্যু
১৪ ও ১৫ মে শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকে কেবল বাণিজ্য নয়, বরং আরও কিছু স্পর্শকাতর বিষয় উঠে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে:
ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প চাইছেন চীন যেন তেহরানকে ওয়াশিংটনের সাথে একটি সমঝোতায় আসতে প্রভাবিত করে।
বাণিজ্য যুদ্ধ বিরতি: গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধ বিরতি বজায় রাখা।
প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ: চীন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন সেমিকন্ডাক্টর এবং চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
অন্যান্য: তাইওয়ান ইস্যু এবং পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছানোর আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন বিমানবন্দরে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং-এর সাথে জরুরি বৈঠক শুরু করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো বেইজিং সফরের আগে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলোর একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা।
যদিও ট্রাম্প এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে বর্তমানে চীনের তুলনায় ট্রাম্পেরই এই সমঝোতা বেশি প্রয়োজন। বেইজিং ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ লিউ কিয়ান বলেন, "ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন ভোটারদের দেখাতে হবে যে বড় চুক্তি হচ্ছে এবং টাকা আসছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান শক্ত হয়।"
চীনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আশা করছেন এর ফলে নতুন কোনো ভালো নীতি আসবে, আবার কেউ কেউ একে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ



