গ্রাহকের তথ্য চুরির অভিযোগে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা

গ্রাহকের তথ্য চুরির অভিযোগে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা
১২ মে, ২০২৬ ১১:১৮  

অনুমতি ছাড়াই গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে ওটিটি জায়ান্ট ‘নেটফ্লিক্স’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন সোমবার এই মামলাটি দায়ের করেন। তার দাবি, নেটফ্লিক্স গোপনে ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা ও বাণিজ্যিক ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার আয় করছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন প্যাক্সটন বলেন, “নেটফ্লিক্স একটি গোপন নজরদারি প্রোগ্রাম তৈরি করেছে যার মাধ্যমে তারা টেক্সাসবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জন করছে। আমার দপ্তর এটি বন্ধ করার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে।” মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, নেটফ্লিক্সের ‘অটোপ্লে’ ফিচারের মতো কিছু বৈশিষ্ট্য শিশুদের দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মটিতে আটকে রাখতে এবং আরও বেশি তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা হয়।

মামলায় নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ওপর মানসিক প্রভাব খাটানোর বা ম্যানিপুলেট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের প্রোফাইলে ডিফল্টভাবে ‘অটোপ্লে’ ফিচারটি বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এছাড়া অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ অবিলম্বে বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।

তবে নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ এই মামলাটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, “অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাক্সটনের এই মামলাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। নেটফ্লিক্স সবসময় গ্রাহকদের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয় এবং আমরা যে সব দেশে কাজ করি সেখানকার তথ্য সুরক্ষা আইন মেনেই কার্যক্রম চালাই।”

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায় যে, তারা আদালতে এই অভিযোগের মোকাবিলা করবে এবং তাদের অত্যাধুনিক ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ বা অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ গোপনীয়তা নীতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেবে।

উল্লেখ্য, বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে টেক্সাস সরকারের এটিই প্রথম আইনি লড়াই নয়; এর আগে স্যামসাং এবং মেটার বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা করেছিলেন কেন প্যাক্সটন।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: এনগ্যাজেট