এবার মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছে গুগল ও স্পেসএক্স

এবার মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছে গুগল ও স্পেসএক্স
১৩ মে, ২০২৬ ০৯:৩০  

ভূপৃষ্ঠের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে এবার মহাশূন্যে ডেটা সেন্টার স্থাপনের লক্ষে আলোচনা শুরু করেছে দুই টেক জায়ান্ট গুগল এবং ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

ইলন মাস্কের দাবি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গাণিতিক কাজ বা ‘এআই কম্পিউট’-এর জন্য মহাকাশই হবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান। বর্তমানে পৃথিবীতে ডেটা সেন্টার স্থাপন করতে গিয়ে জমি অধিগ্রহণ এবং পরিবেশগত বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন করলে এ ধরনের স্থানীয় বা আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাকাশ গবেষণায় পিছিয়ে নেই গুগলও। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উদ্যোগে ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। স্পেসএক্স ছাড়াও অন্যান্য রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথেও এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে গুগল। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে গুগল স্পেসএক্সে ৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল।

যদিও ইলন মাস্ক একে সাশ্রয়ী বলছেন, তবে অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষক ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। টেকক্রাঞ্চের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাটেলাইট নির্মাণ এবং তা মহাকাশে পাঠানোর বিপুল খরচ বিবেচনা করলে বর্তমানে পৃথিবীতে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করাই অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান ডেটা ব্যবহারের চাপ সামলাতে বিকল্প হিসেবে মহাকাশই হতে পারে মূল সমাধান।

এই বছরের শেষের দিকে স্পেসএক্স ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্স ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’ অধিগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় এআই স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রপিক’-এর সাথেও স্পেসএক্সের একটি চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা স্পেসএক্সের কম্পিউটিং রিসোর্স ব্যবহার করবে। ভবিষ্যতে তারা যৌথভাবে কক্ষপথের ডেটা সেন্টারেও কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের এই প্রতিযোগিতা সফল হলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের গতি ও সক্ষমতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: টেকক্রাঞ্চ