বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান
৫ মে, ২০২৬ ২০:১৩  

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মোকাবিলায় সমন্বিত বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ ও জাতীয় প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ লক্ষ্যে রাজধানীর সাভারে এক সেমিনারে গবেষণা, ল্যাবরেটরি সক্ষমতা, টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

৫ মে, মঙ্গলবার সাভার-এ অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর সিনেট হলে অনুষ্ঠিত “ইনসাইটস ফ্রম রিসেন্ট মিজলস আউটব্রেক ইন বাংলাদেশ: স্ট্রেংদেনিং সায়েন্টিফিক রেসপন্স অ্যান্ড ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস” শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শনাক্তকরণ, কার্যকর চিকিৎসা, টিকাদানের পরিধি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফিরদৌসী কাদরী, ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল এবং শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় কুমার দে। তারা হামের বিস্তার, ল্যাবরেটরি নির্ণয় পদ্ধতি, টিকাদানে ঘাটতি এবং শিশুদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) ড. এম মাহমুদুর রহমান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মাহরুহী সাত্তার এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস-এর সভাপতি ড. মো. লতিফুল বারী।

বক্তারা বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান একটি সতর্কবার্তা, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও টিকাদান কাভারেজের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন তারা।

সেমিনারে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এজন্য সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং ভবিষ্যৎ মহামারি ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশকে আরও প্রস্তুত করা যাবে।

ডিবিটেক/এমআইএ/এমইউআইএম