মানসিক সংকটে ব্যবহারকারীর বন্ধুকে জানাবে চ্যাটজিপিটি

মানসিক সংকটে ব্যবহারকারীর বন্ধুকে জানাবে চ্যাটজিপিটি
১০ মে, ২০২৬ ০৯:৪২  
৯ মে, ২০২৬ ২১:৪৩  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি এখন থেকে ব্যবহারকারীর জীবন রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। কোনো ব্যবহারকারী যদি নিজের ক্ষতি করার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তবে চ্যাটজিপিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু বা স্বজনকে বিষয়টি অবহিত করবে। শুক্রবার ওপেনএআই তাদের নতুন 'ট্রাস্টেড কন্টাক্ট' ফিচারটি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ?
বর্তমানে বিশ্বে চ্যাটজিপিটির প্রায় ৮০ কোটি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী রয়েছে। বিবিসি-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০ লাখ ব্যবহারকারী চ্যাটবটটির সাথে কথোপকথনের সময় আত্মহত্যার চিন্তা বা মানসিক বিষণ্নতার কথা প্রকাশ করেন। গত বছর এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই বড় পরিবর্তন আনল।

যেভাবে কাজ করবে 'ট্রাস্টেড কন্টাক্ট'
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সেটিংস অপশনে গিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে তাদের ‘ট্রাস্টেড কন্টাক্ট’ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন। যাকে যুক্ত করা হবে, তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে হবে।

যদি চ্যাটজিপিটির সিস্টেম শনাক্ত করে যে ব্যবহারকারী নিজের বড় কোনো ক্ষতি করার গুরুতর পরিকল্পনা করছেন, তবে এটি সরাসরি ওই বন্ধুকে ইমেইল, খুদে বার্তা বা অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করবে। তবে হুট করেই কোনো বার্তা পাঠানো হবে না; প্রথমে ব্যবহারকারীকে নিজেই তার বন্ধুর সাথে কথা বলতে উৎসাহিত করবে চ্যাটজিপিটি।

গোপনীয়তা ও মানুষের নজরদারি
ওপেনএআই জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল নয়। একটি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। কেবল জীবনহানির ঝুঁকি নিশ্চিত হলেই ওই বন্ধুকে বার্তা পাঠানো হবে। তবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় চ্যাটবটের সাথে হওয়া কথোপকথনের কোনো ট্রান্সক্রিপ্ট বা বিস্তারিত তথ্য ওই বন্ধুকে পাঠানো হবে না। বার্তায় কেবল লেখা থাকবে— "আপনার বন্ধু একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, দয়া করে তার খোঁজ নিন।"

নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক ঘণ্টা সময়
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, যে কোনো বিপদের সংকেত পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বিষয়টি যাচাই করে নোটিফিকেশন পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। যদিও কোনো সিস্টেমই শতভাগ নিখুঁত নয়, তবুও মানুষের মাধ্যমে যাচাই করার ফলে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে বলে মনে করছে ওপেনএআই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী এবং মানবিক পদক্ষেপ।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: এনগ্যাজেট