বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তায় ঝুঁকি রয়ে গেছে, প্রয়োজন প্রযুক্তি ও সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ

ফ্যাক্টচেকে সবিশেষ গুরুত্বারোপ

ফ্যাক্টচেকে সবিশেষ গুরুত্বারোপ
৬ মে, ২০২৬ ১৯:১৬  
৬ মে, ২০২৬ ২৩:১৮  

দেশের সাইবার জগতের মোট ট্রাফিকের বড় অংশই বট বা কৃত্রিম কার্যকলাপে ঠাসা বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অপরদিকে টেলিকমের কিছুটা থাকলেও আইএসপিরা সাইবার সুরক্ষায় পিছিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। 

আর দ্রুত সময়ে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে ও সামাজিক অসচেতনতা নিয়ে। ফ্যাক্ট চেকিং প্রক্রিয়া ও নাগরিক সচেতনতা না বাড়ালে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সাইবার নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন করেন বক্তারা।  সাইবার নিরাপত্তা আইন সংস্কারের সাথে প্রয়োগ নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

৬ মে, বুধবার রাজধানীর গুলশানের লেক শো'র হোটেলে দেশের বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক এক আলোচনাসভায় এমন অভিব্যক্তি তুলে ধরেন বক্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাক্টচেকের ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতের সাইবার নিরাপত্তায় এখনও বেশ দুর্বলতা রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত তথ্যের বড় অংশ বেসরকারি খাতে সংরক্ষিত থাকায়, শুধু সরকারি খাত নিরাপদ করলেই নাগরিকরা নিরাপদ থাকবে না বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়েই সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করবে সরকার।

বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়ে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার না হলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এখনো মৌলিক নিরাপত্তা দুর্বলতা বিদ্যমান। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর নাম ‘অ্যাডমিন’ এবং পাসওয়ার্ড ‘পাসওয়ার্ড১২৩’-এর মতো সহজ ও ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য ব্যবহারের নজির পাওয়া গেছে, যা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আইনি কাঠামোর পরিবর্তনের দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার উপাত্ত সুরক্ষা আইনে ফৌজদারি অপরাধের পরিবর্তে দেওয়ানি দায়বদ্ধতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডেটা সুরক্ষা আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃনির্ভরতা বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনলাইন জগতে ভুয়া কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে মোট অনলাইন ট্রাফিক বা এনগেজমেন্টের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বট বা ইনঅর্গানিক ট্রাফিক। এই প্রবণতা সাইবার বুলিং ও হয়রানির মতো সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

রেহান আসিফ আসাদ মনে করেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত এবং ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

ইউনেস্কো, দৃক ও নাগরিক কোয়ালিশনের উদ্যোগে আলোচনায় যোগ দেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।  আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে সাইবার নিরাপত্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশে সুশাসন নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের  প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের সাইবার নিরাপত্তা ও ডাটা নিরপত্তা আইন রদবদল না করায় সভায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান টিপ্যাপ সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন  ইউনেস্কো (UNESCO) প্রতিনিধি: ড. সুসান ভাইজ, সুইডেন অ্যাম্বাসির পলিটিক্যাল সেক্রেটারি পাউলো ক্যাসট্রো নেইডারস্ট্রম, ভয়েস ফর রিফর্ম সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিজিডি ই গভঃ সার্ট প্রকল্প পরিচালক মোঃ নাজমুল হক খন্দকার, কনসালটেন্ট তানিমুল বারী, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের কান্ট্রি হেড ফওজিয়া আফরোজ পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ইউএনডিপি’র সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট শীলা তাসনিম হক, গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।
ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে