টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোর দাবি এমটবের

টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোর দাবি এমটবের
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২৯  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আয়োজিত বাজেট-পূর্ব আলোচনায় মোট ২৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)।

সংগঠনটির মতে, ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে টেলিকম সেবার ওপর বর্তমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১ শতাংশ সারচার্জ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। তাই এসব কর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ আরও সহজে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারে।

এমটব আরও জানিয়েছে, সিম ও ই-সিম সরবরাহ ও প্রতিস্থাপনের ওপর বর্তমানে ৩০০ টাকা ভ্যাট আরোপ রয়েছে, যা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। সংগঠনটি এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় ভ্যাট আরোপ করা হলেও পরবর্তীতে একই স্পেকট্রাম ব্যবহার করে ভয়েস ও ডাটা সেবা দেওয়ার সময় আবার ভ্যাট দিতে হয়। এতে কার্যত দ্বৈত কর আরোপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই স্পেকট্রামের ওপর ভ্যাট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরের জন্য করপোরেট করের হার ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ৪৫ শতাংশ, যা অন্যান্য অনেক খাত ও দেশের তুলনায় বেশি বলে উল্লেখ করেছে এমটব। তারা এই করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সেবার ওপর বর্তমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। এমটব মনে করে, এই শুল্ক কমানো হলে সেবাটি আরও জনপ্রিয় হবে এবং কনটেন্ট নির্মাতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে এর ব্যবহার বাড়বে।

সংগঠনটির দাবি, টেলিযোগাযোগ খাতে কর কাঠামো সহজ ও সহনীয় করা হলে বিনিয়োগ বাড়বে, সেবার মান উন্নত হবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিদ্যমান কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে এমটব মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.) বলেছেন, উচ্চ করহার, কম আয় এবং বিনিয়োগে সীমিত মুনাফার কারণে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর ও ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। যেসব বছরে স্পেকট্রাম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়, সেসব বছরে এই চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে খাতে বিনিয়োগের তুলনায় আয় ও মুনাফা সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে মোবাইল ভয়েস ও ইন্টারনেটের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় গ্রাহক সংখ্যা বেশি হলেও গ্রাহকপ্রতি গড় আয় (এআরপিইউ) ১৫০ টাকারও কম, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করছে।

ডিবিটেক/এএএম/ইকে