প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নে জোর, এনএসডিএ কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত

প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নে জোর, এনএসডিএ কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১১  

প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, হাইব্রিড লার্নিং এবং আধুনিক অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে দেশের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যেই অনলাইন ও সশরীরে (হাইব্রিড) প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে ২৭ এপ্রিল, সোমবারপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের এপেক্স বডি হিসেবে এনএসডিএ’র ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর লেভেল ১ থেকে ৬ পর্যন্ত কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সনদায়ন কার্যক্রম এনএসডিএ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় উল্লেখ করা হয়, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এনএসডিএ এবং কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) নিজ নিজ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে দুটি আইনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বৈততা ও অস্পষ্টতা দূর করতে বিটিইবি আইন সংশোধনের বিষয়ে পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজনের মাধ্যমে দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি (এমআরএ) সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদায়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত সনদ প্রদানের লক্ষ্যে কোর্স সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে মূল্যায়ন সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষাগত ও আচরণগত প্রশিক্ষণ জোরদার, জেলা পর্যায়ে ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।

সভায় আরও বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্য বৃহৎ পরিসরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার করা জরুরি।

একইসঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং মান নিয়ন্ত্রণে এনএসডিএ’র ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কার্যনির্বাহী কমিটি ও গভর্নিং বোর্ডের সভা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এনএসডিএ’র নেতৃত্বে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

ডিবিটেক/এএফএন/ইকে