‘সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে’

‘সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে’
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৫৫  

রেলওয়ে খাতে প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে রেলসেবাকে আরও টেকসই ও কার্যকর করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  এর অংশ হিসেবে দেশের উত্তরের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। 

২৭ এপ্রিল, সোমবার বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মহাপরিচালকবলেন, রেলওয়ে কোচ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য কারখানাটির বিদ্যমান লোকবল, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের সংকট চিহ্নিত করে তা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারখানাটির আধুনিকায়নের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রমও চলছে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন আগে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি বর্তমানে জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কারখানাটিকে সচল ও সক্ষম রাখতে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মো. আফজাল হোসেন আরও বলেন, সক্ষমতা বাড়িয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে দেশের রেলওয়ে ব্যবস্থার মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যেই পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা ও সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে তিনি পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, আসন বরাদ্দ বৃদ্ধি, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং দুই নম্বর প্ল্যাটফর্‌ম প্রশস্তকরণের বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখেন। পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক বলেন, বিরামপুর রেলস্টেশন ঘিরে উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নতুন ট্রেনের স্টপেজ চালুর ক্ষেত্রে সময়সূচিতে কতটা প্রভাব পড়বে, তা পরীক্ষামূলকভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘রেলের পরিধি বাড়ছে, রেলওয়ে কোচের সংখ্যও বাড়ছে। চলতি বছরেই ভারত থেকে রেলের ২০০ ব্রডগেজ কোচ আসার কথা রয়েছে। ফলে সৈয়দপুরি রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক হোয়ে ইউন জিয়ং, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি আর এল) এফ এম মহিউদ্দিন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন, বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিয়া মো. শফিকুল আলম মামুন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু, বিএনপি নেতা ওয়াহেদুজ্জামান, বিরামপুর পেশাজীবী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য সচিব মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর দক্ষিণ অঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক, বিরামপুর কলেজের সাবেক ভিপি সৈয়দ গোলাম মোর্শেদ সৈকত, বিরামপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান এবং যুগ্ম সম্পাদক রিপন চৌধুরী মানিক।

ডিবিটেক/এসআই/ইকে