তথ্যপ্রযুক্তি  ভিত্তিক  নিউ  মিডিয়ার কথা শুনতে চান মন্ত্রী

তথ্যপ্রযুক্তি  ভিত্তিক  নিউ  মিডিয়ার কথা শুনতে চান মন্ত্রী
৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৫  

তথ্যপ্রযুক্তি  ভিত্তিক  নিউ  মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছ থেকে পরামর্শ চাইলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে এখন থেকে নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার ইচ্ছাও পোষণ করেছেন মন্ত্রী। 

৬ মার্চ, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে ইনফরমেশন শেয়ারিং একটি হাইব্রিড সিস্টেমে রয়েছে। এখন আমরা একটি ‘ডিভাইস বেজড সোসাইটি’তে বাস করছি, যেখানে তথ্যের প্রবাহ আগের চেয়ে অনেক বেশি।”

“সরকারকে আধুনিক ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হলে ইনফরমেশন শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড’ অর্জন করতে হবে”- মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে গ্রাম পর্যায়ের মেধাবীরাও তাদের প্রতিভা বিকাশের সঠিক সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বলেন, বর্তমান সময়টি একটি ‘হাইব্রিড সিস্টেম’। কেউ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কেউ আবার কলম ছাড়া চলতে পারছে না। এই বিবর্তনের যুগে পেশাদারিত্বের মান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কেবল প্রশংসা পকেটে ভরবে আর ভুলের সমালোচনার দায়িত্ব নেবে-তা হতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের প্রধান অংশীদার গণমাধ্যম, তাই সমস্যাটা আমাদের একই চশমা দিয়ে দেখতে হবে। গণমাধ্যমের সমস্যার সমাধান করতে হলে এর এ্যানাটমি সঠিকভাবে বুঝতে হবে। কোন সমস্যার ডায়াগনোসিস সঠিকভাবে না হলে এর ট্রিটমেন্ট সঠিক হবে না।’

মন্ত্রী গণমাধ্যম শিল্পের সমস্যা সমাধানে ঐকমত্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অচিরেই সাংবাদিকদের সব ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শুরু হবে। 

তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের বেতন দিতে বাধ্য থাকবে না- এমন কোনো আইনের মধ্যে এই শিল্প চলতে পারে না। মালিকের লাভ হয়নি বলে একজন মেধাবী সাংবাদিকের বেতন হবে না, এটা হতে পারে না। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে গণমাধ্যম জগৎ কখনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাবে না। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং পত্রিকা নিবন্ধনের সামগ্রিক পরিস্থিতির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থেরই অংশ।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাংবাদিকদের একটি বাস্তবসম্মত ওয়েজবোর্ড কার্যকর, সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন, বছরে দুই ঈদের ছুটি পাঁচদিন করে এবং অবসর ভাতা চালু করা এখন সময়ের দাবি।

মন্ত্রী প্রস্তাবের বাস্তব সম্মত সমাধানে সকল অংশীজনের সঙ্গে শিগগিরই বসবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ ডিআরইউ-এর সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম