স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভিডিও বার্তায় যা বললেন জাহের আলভী

স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভিডিও বার্তায় যা বললেন জাহের আলভী
৩ মার্চ, ২০২৬ ০০:০৫  

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা’র আত্মহত্যার পর ‘মব ভায়োলেন্স’র ভয়ে টিকিট কেটেও নেপাল থেকে দেশে না ফেরার দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অভিনেতা জাহের আলভী। তৃতীয় পক্ষের কারণে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলেও অভিযোগ এই অভিনেতার। 

৩ মার্চ, সোমবার সন্ধ্যার পর নিজের ফেসবুকে প্রায় আধ ঘণ্টার একটি ভিডিও পোস্ট করে এই অভিযোগ করেন আলভী। সেখানে ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তৈরী হওয়া সব প্রশ্নের উত্তর দেন আলভী। ভিডিওতে আলভী শেষবারের মতো স্ত্রীকে কেন দেখতে এলেন না, ইকরার সাথে দাম্পত্য জীবন ও অভিনেত্রীর তিথির সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলেন। 

সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন, শেষবারের মতো স্ত্রীর মুখ দেখতে দেশে ফেরেননি কেন? এ প্রসঙ্গে আলভী জানান, ‘ঘটনার দিন সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ট্রানজিটে আসতে গেলে পরদিন পৌঁছাতে হতো। বহু চেষ্টা করেও সেদিন টিকিট পাননি। পরদিন ইমিগ্রেশন ক্রস করার পরই সম্ভাব্য হামলার খবর পেয়ে আর দেশে ঢোকেননি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রাখছেন? আমি দেশে আসার পরই আমার উপর মব তৈরী হবে, আমার ফোনে এরকম এতো এতো থ্রেটস এসেছে। ইকরার শেষ মুখটা আপনারা আমাকে দেখতে দেন নাই, ইকরার পরিবার আমাকে দেখতে দেখতে দেয় নাই।’

স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে আলভী জানান, ‘তাদের সম্পর্ক শুরু থেকেই টক্সিক ছিল। ইকরা সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং বহুবার ডিভোর্স চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি রাজি হননি।’

নেপালে অভিনেত্রী তিথির জন্মদিন পালন ও তার সাথে সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, সেটে কারো জন্মদিন হলে পুরো টিম সেটাকে সেলিব্রেট করে, কারণ আমরা ফ্যামিলির মতো কাজ করি। তিথির জন্মদিনের আয়োজন ও আমি করিনি। পুরো টিম মিলে করেছে।’

তিথির সাথে সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করলে একটা নির্ভরশীলতার জায়গা তৈরি হয়। চিন্তা-ভাবনা বা মানুষ হিসেবে তিথি আর আমি অনেকটা একইরকম। আর ওকে ইন্ড্রাস্টিতে আমার সবচেয়ে বেশি সেইফ মনে হয়েছে। এই মানুষটা কখনো আমার ক্ষতি করতে পারে না।’

শেষে ছেলে রিজিকের কাছে ফিরতে চাওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা প্লিজ আমাকে আমার ছেলের কাছে ফিরতে দিন। আমার সন্তানকে আমি একটা ভালো ভবিষ্যত দিতে চাই। ভালো রাখতে চাই।’

২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসায় আত্মহত্যা করেন ইকরা। সেসময় আলভী নাটকের শ্যুটিংয়ে নেপালে ছিলেন। ঘটনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান আলভী।

এর আগে ইকরাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে আলভী-তিথিদের বিচার দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী (৪ মার্চ) বুধবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) গেটের সামনে মানববন্ধটি হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মডেল বারিশা হক। 

তিনি তার ফেসবুক পেজে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘আগামী ৪-ই মার্চ দুপুর ১২টায় এফডিসির গেটে মানববন্ধন। সবার জন্য উন্মুক্ত। We Want Justice For IKRA।’

তারও আগে তিনি আরেক পোস্টে লেখেন, ‘ইকরা আপুর জন্য বিচার চাই, মানববন্ধন করতে চাই। মিডিয়া কর্মীরা যাদের সাহস আছে সামনে আসুন প্লিজ, অন্যায়কে সাপোর্ট করবেন না প্লিজ।’ 

ইকরার মৃত্যুর পর এ ঘটনায় জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় মামলাটি করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার এজাহারে নির্যাতন, মানসিক চাপ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবিটেক/এসএম/ইকে