জকসুতে শিবিরের জয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুখীমন

জকসুতে শিবিরের জয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুখীমন
৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০১:২৫  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‌‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১৫টি পদেই এই প্যানেলের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। এই প্যানেল থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মোছা. সুখীমন খাতুন। 

৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয় বিজয়ী হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম আবর্তনের এই শিক্ষার্থী। এফ ৪ নম্বর ব্যালেট নিয়ে হাজারের বেশি ভোটে এফ ৬ ব্যালটের মাশফিকুল ইসলাম রাহিমকে (৩,১৭৬) টপকে বিজয়ী হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার এই সভানেত্রী। 

বিজয়ী সুখীমন জানান, তিনি অন্যান্য ক্যাম্পাস থেকে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধুনিক গবেষণার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ও দক্ষতা উন্নয়নে সায়েন্স ফেয়ার অলেম্পিয়াডের আয়োজন ও বিভিন্ন সভা সেমিনার করবেন। এছাড়াও ক্যাম্পাসজুড়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমের উন্নয়ন ও ইন্টরঅ্যাক্টিভ ক্লাসরুম গড়ে তুলবেন। 
  
এই নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) এই শিক্ষার্থী সংসদের ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা। অপর দিকে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল পাঁচটি পদে জয় পেয়েছে। 

৭ জানুয়ারি, বুধবার দিবাগত রাত একটায় জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও হল সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ পদেই জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির। জকসুর প্রথম নির্বাচনেও অধিকাংশ পদে জয় পেল তারা।

জকসুতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট।

এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী (৫ হাজার ৪০০ ভোট), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল (৫ হাজার ৫২৪ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন (৪ হাজার ৪৮৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ (৪ হাজার ৪৭০ ভোট), আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক (৪ হাজার ৬৫৪ ভোট), আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার (৪ হাজার ৪০১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম (২ হাজার ৪৬৭ ভোট) এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (৩ হাজার ৪৮৬ ভোট) জয়ী হয়েছেন।

ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্যের ৭টি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৫ জন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ফাতেমা আক্তার (অওরিন), ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। একই প্যানেলের আকিব হাসান ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট, শান্তা আক্তার ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট, জাহিদ হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট ও  মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক ২ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলে দুজন বিজয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ সাদমান আমিন (৩ হাজার ৩০৭ ভোট), ইমরান হাসান ইমন (২ হাজার ৬৩৬ ভোট)।  

এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হল সংসদে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে মোছা. জান্নাতুল উম্মি ৫৫০ ভোট, জিএস পদে সুমাইয়া তাবাসসুম ৫৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

জকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থনে ক্যাম্পাসে আনন্দমিছিল করা হয়। এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদি—আজাদি আজাদি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। বিজয় মিছিল শেষে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শোকরানা নামাজ পড়েন শিবিরের বিজয়ীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। জকসু নির্বাচনে মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। সেখানে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। শুরুতে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনা শুরু হয়। একজন ভোটারের ব্যালটের তিনটি পাতা তিনটি মেশিন দেওয়া হয় গণনার জন্য। সেই গণনা ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য ওই একই ব্যালটের তিন পাতা দেওয়া হয় অন্য তিন ওএমআর মেশিনে। কিন্তু যাচাই করার এ কাজে দুটি যন্ত্রে  একটি ভোটের পার্থক্য হওয়ায় বিপত্তিতে পড়ে নির্বাচন কমিশন। কেন এটা ঘটছে, তা বুঝতে না পারায় ভোট গণনার কাজ স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গুনে পরে যন্ত্রে যাচাই করা হয়। ওই ব্যালটগুলো হাতে গোনার পর দিবাগত রাত তিনটার দিকে যন্ত্রে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হলে আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর যেসব মেশিনের ফল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতের সঙ্গে মেলে শুধু সেগুলো দিয়ে বাকি ভোট গণনা পুরোদমে শুরু হয়। এভাবেই অ্যানলগ-ডিজিটাল যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে ফল গণনা শুরু করতে ভোর হয়ে যায়। 
ডিবিটেক/বিডিওপি/এইএচবি