ইসি চাইলে সিসিটিভির জন্য ২০০ কোটি টাকা খয়রাত দিতে পারি: ওসমান হাদি

ইসি চাইলে সিসিটিভির জন্য ২০০ কোটি টাকা খয়রাত দিতে পারি: ওসমান হাদি
৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:৫৯  

নির্বাচনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন না করার আগে ভোট চান না ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। প্রয়োজনে সিসিটিভি কেনার ২০০ কোটি টাকা চাইলে ইলেকশন কমিশনকে (ইসি) খয়রাত দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

৬ ডিসেম্বর, শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের (ইডব্লিউএ) আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ এবং ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ  প্রস্তাব দেন।

শরিফ ওসমান হাদি বলেন, ২০০ কোটি টাকার কারণে যদি নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার না করা হয়, ইলেকশন কমিশন চাইলে আমি খয়রাত করতে পারি। আমরা ২০০ কোটি টাকা খয়রাত ম্যানেজ করে দেব। খয়রাত কোনো খারাপ শব্দ হিসেবে বলিনি, বৃহত্তর বরিশালে দান-সদকাকে খয়রাত বলা হয়। ইলেকশন কমিশন চাইলে যারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তারা ২০০ কোটি টাকার সিসি ক্যামেরা দিয়ে দেবেন।

তিনি বলেন, নিয়ত ভালো থাকলে আমরা সবাই মিলে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করে দিতে পারব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সিসি ক্যামেরা তারা (ইসি) অপারেট করবে কি না। সিসি ক্যামেরা ইন্সটল করতে যদি কেয়ামত পর্যন্ত সময় লাগে, তাহলে কেয়ামতের দিন নির্বাচন হবে, তার আগে নির্বাচনের দরকার নেই।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করবেন। সেই নির্বাচনে কাউকে না কাউকে সুবিধা দিয়ে, পরে বয়স ৭০ হয়ে যাওয়ার পরও আবার চুক্তিভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ার সুযোগ নেবেন।

নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রত্যেক প্রার্থী ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে অথবা প্রার্থী প্রতি ১০ টাকা (সরকারি হিসাব অনুযায়ী)। একজন প্রার্থী কত টাকা খরচ করল বা করল না, ধরার উপায় কী? নির্বাচন কমিশনের কি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া আছে? ধরুন, কেউ ২৫ কোটি টাকা খরচ করল, এটা কীভাবে প্রমাণ করবেন? প্রমাণ হলেও তার এমপি পদ কি বাতিল করতে পারবেন? 

গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মো. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. শাফিউল ইসলাম। 

প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সরকারের সাবেক সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ও কলামিস্ট ইকতেদার আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, এবি পার্টির প্রধান সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর কাজী মিনহাজুল আলম প্রমুখ।
ডিবিটেক/বিএন/ইকে