খাদ্যে ভেজালে ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ ও নিষ্পত্তির সুযোগ দাবি
বাজারের ৭১ শতাংশ সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক, তেলের নমুনায় বিপজ্জনক ট্রান্স–ফ্যাট এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খাদ্যমান নিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ বৃদ্ধি ও প্রতিকার পাওয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
৬ ডিসেম্বর, শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে তুলা উন্নয়ন ভবনে অনুষ্ঠিত নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা ও ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠার পথরেখা ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিনারে এই দাবি তোলা হয়।
কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক কাওছারুল ইসলাম সিকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি, বিএসটিআই এর উপ-পরিচালক এনামুল হক, কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া, ক্যাবের ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) সামস এ খান এবং ক্যাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য শওকত আলী খান আলোচনায় অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতের বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার না হলে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাশাপাশি শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক সেমিনার নয়, তৃণমূলে ভোক্তা সুরক্ষা পৌঁছে দিতে ক্যাবের উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ সেফ এগ্রো ফুড ইফোর্টস (বিএসএএফই) এর লিংক পরিচালক মাহমুদ হাসান জানান, প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি মানুষ খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বাজারে ভেজাল, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, অনিরাপদ পণ্য এবং অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ বাড়ছে। ডিএনসিআরপি'তে গত বছর জমা পড়া ৮০ হাজারের বেশি অভিযোগ থেকে জানা যায়, দেশে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বাড়ছে।
কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের সচিব (পিএরএল) এএইচএম সফিকুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে আপনাদের (বিএসএএফই) সাথে ক্যাব থাকবে। কারণ, ক্যাবের লক্ষ্য ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। ক্যাবের আন্দোলনের ফলেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পেয়েছি। অথচ তারা (ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি) আজকের এই আলোচনায় নেই, এটা দুঃখজনক। কিন্তু, ক্যাব চায় সবাইকে নিয়ে নাগরিকদের ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের উচিত নাগরিকদের জন্য সেফ ফুড (নিরাপদ খাদ্য) নিশ্চিতের অঙ্গিকার করা। কারণ, এটি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম দায়িত্ব। অথচ, এ সকল বিষয়ে কোনো আলোচনা দেখা যাচ্ছে না।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই খাদ্যের উৎপাদনও বাড়াতে হবে। কিন্তু এই উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে আমরা রাসায়নিক সারের ওপর ঝুঁকে পড়ছি। কৃষকরা রাসায়নিক সারের ওপর এত বেশি নির্ভর হয়ে গেছে যে এখন আর কৃষিপণ্যের উৎপাদনই হচ্ছে না। অর্থাৎ মাটি তার উৎপাদন ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলছে। উৎপাদন ক্ষমতা ঠিক রাখতে কৃষকদের রাসায়নিক সার বিমুখ করতে হবে এবং জৈব সার নির্ভর করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ক্যাবের সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের উচিত নাগরিকদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের অঙ্গীকার করা। কারণ, এটি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম দায়িত্ব। অথচ এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা দেখা যাচ্ছে না। তাই নতুন সরকার বা বিরোধী দল যাতে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করে, সেই বিষয়ে আমাদের সোচ্চার হতে হবে এবং দ্রুত মাঠে নামতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে আপনাদের (বিএসএএফই) সঙ্গে ক্যাব থাকবে। কারণ, ক্যাবের লক্ষ্য ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। ক্যাবের আন্দোলনের ফলেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পেয়েছি। অথচ তারা (ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি) এই আলোচনায় নেই, এটি দুঃখজনক। কিন্তু ক্যাব চায় সবাইকে নিয়ে নাগরিকদের ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
সেমিনারে মূল ধারণাপত্রে সকল অংশীজনদের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব জোরদার করা, খাদ্য বাজারে জবাবদিহি বাড়ানো, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি ও অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা, গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ জানানো ও প্রতিকার পাবার সুযোগ বৃদ্ধি করা, নিরাপদ খাদ্য নীতিমালা প্রণয়ন করা, ভোক্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা করা, টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ূ-সংবেদনশীল নীতিমালা অনুশীলন করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিবিটেক/বিটিএন/ইকে







