জুজু বুড়ির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই: প্রধানমন্ত্রী

যশোর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সময় সময় বিভ্রান্তি ছড়ায়। যারা একসময় টিকিট বিক্রির নামে অরাজকতা করেছিল, তারা ১৯৭১ সালেও ষড়যন্ত্র করেছে, ১৯৯১ সালেও করেছে। এমনকি গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর যারা ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে বলেছে—’ক্ষমা করে দিলাম’, তারা আজ আবারো বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করেছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, […]

জুজু বুড়ির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই: প্রধানমন্ত্রী
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:২৫  

যশোর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সময় সময় বিভ্রান্তি ছড়ায়। যারা একসময় টিকিট বিক্রির নামে অরাজকতা করেছিল, তারা ১৯৭১ সালেও ষড়যন্ত্র করেছে, ১৯৯১ সালেও করেছে। এমনকি গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর যারা ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে বলেছে—’ক্ষমা করে দিলাম’, তারা আজ আবারো বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করেছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, কোনো জুজু বুড়ির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। জুলাই মাসের হত্যাকারীদের বিচার এই মাটিতেই হবে এবং আমরা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। একদল লোক বলছে বিএনপি নাকি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে! অথচ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে। যশোরেই আমাদের ৬৮ জন ভাই শহিদ হয়েছেন। যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তারা বড় বড় বক্তৃতা করেন ঠিকই কিন্তু তলে তলে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে মিটিং করেন। আপনাদের যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে তবে অপেক্ষা করুন, জনগণ যখন আপনাদের ম্যান্ডেট দেবে তখন তা বাস্তবায়ন করবেন। এখন আমাদের কাজ করতে দিন।

জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, এই বিভ্রান্তিকারীরা যেন দেশে পুনরায় ১৩৭ দিন হরতাল করার মতো কোনো অপসুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এরা দেশের উন্নয়ন চায় না, এরা চায় বিশৃঙ্খলা।

দেশের অর্থনীতি ও কৃষি নিয়ে তার মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উলাশী বিপ্লবকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। উলাশীর মানুষ এই খালকে ‘জিয়া খাল’ নাম দিয়েছে। এই সফলতাকে পাথেয় করে আমরা সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এতে কৃষকরা সরাসরি সেচের পানি ব্যবহার করতে পারবে এবং জলাবদ্ধতার কারণে ফসল নষ্ট হওয়া বন্ধ হবে। খালের ভেতর মাছ চাষ ও পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশের সব বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। বিদেশের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন পথ উন্মোচন করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য। মা-বোনদের শিক্ষা, শিশুদের টিকা ও বেকারদের কর্মসংস্থানই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। হামের টিকার অভাবে যে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, মা-বোনদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমাদের সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী মাসের ২ তারিখে আমরা সিলেট যাচ্ছি। সারা দেশের ৫০০ জন খেলোয়াড়কে সম্মাননা দেওয়া হবে যাতে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ অ্যাথলেট তৈরি হয়। এতে দেশের যুবসমাজ লাভবান হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে সুফল আসবে।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন—যে জাতি নিজে পরিশ্রম করে না, তার ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত দিয়ে দেশ গড়তে হবে। ১৯৭১ সালে আমাদের সঙ্গে স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ আজ কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছে। আমরাও আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বো। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছে, তা থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবে না। একদল লোকের এই গণম্যান্ডেট পছন্দ নয় বলেই তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজপথে জীবন দেওয়া শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরি এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।