ক্রিপ্টোকারেন্সিতে হরমুজের টোল নেবে ইরান
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ, হরমুজ প্রণালী এখন যুদ্ধ ও কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছে, এই পথ ব্যবহারের বিনিময়ে তেলবাহী জাহাজগুলোকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ‘টোল’ দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় পথের চরিত্র বদলে দিচ্ছে না, বরং বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু ‘পেট্রোডলার’কেও নতুন করে ভাবাচ্ছে।
‘বিটকয়েন টোল’: পদ্ধতি ও মূল্য
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে ইরান। ‘ইরান অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স ইউনিয়ন’ এর মুখপাত্র হামিদ হোসেইনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য প্রতিটি জাহাজকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিনিময়ে ১ ডলার হারে ফি দিতে হবে । খালি জাহাজের জন্য এই ফি প্রযোজ্য নয় ।
কীভাবে দিতে হবে
- জাহাজগুলোর তথ্য ইরানের কাছে জমা দিতে হবে।
- ইরানের মূল্যায়নের পর জাহাজের মালিকদের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিটকয়েনে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে ।
- বিটকয়েন বেছে নেওয়ার কারণটি কৌশলগত। এই লেনদেন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দ্রুত ও গোপন রাখা যায়, যা ট্রেস বা বাজেয়াপ্ত করা প্রায় অসম্ভব ।
পরিণতি: ‘পেট্রোডলার’ চ্যালেঞ্জ ও বাজার উদ্বেগ
মাত্র ১ ডলারের এই ফি শুধু আয়ের উৎস নয়, এটি একধরনের রাজনৈতিক বার্তাও বয়ে আনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে তেলের বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্যের (পেট্রোডলার) ওপর এটি একটি বড় আঘাত ।
‘পেট্রোডলার’ দুর্বল করছে ইরান
আমেরিকার সঙ্গে বিরোধের কারণে ইরান ডলারভিত্তিক বাণিজ্য থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। ইতিমধ্যেই চীনের কাছে তেল বিক্রির জন্য তারা ইউয়ান ব্যবহার করছে। এবার ক্রিপ্টো কারেন্সিতে টোল নেওয়ার মাধ্যমে তারা ডলারের বিকল্প ব্যবহারকে আরও বাস্তবে রূপ দিচ্ছে ।
বাজারে প্রভাব
যুদ্ধবিরতির খবরে কিছুটা স্বস্তি এলেও, এই ‘টোল’ বিশ্ববাজারে নয়া অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ লাখ ব্যারেল তেল যায়, যা বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ । এখন প্রতিটি ব্যারেল তেলের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ ডলার যোগ হচ্ছে, যা পুরো সাপ্লাই চেইনকে ব্যাহত করতে পারে।
এই উদ্যোগকে ‘ডিজিটাল নিষেধাজ্ঞা’ আকারে অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই ‘টোল’ ব্যবস্থা আগামী দিনে কতটা টেকসই হয়, আর আমেরিকা কীভাবে এর জবাব দেয়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্ববাণিজ্যের।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র : গিজমোডো







