প্রযুক্তি-নির্ভর সমাধানই ভুয়া তথ্য মোকাবিলা ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের চাবিকাঠি
ইস্তাম্বুলে তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে শুরু হয়েছে কৌশলগত গণযোগাযোগ সামিট। ২৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকালে কনরাড বসফরাস হোটেলে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। মূল বক্তব্য প্রদান করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ। সামিটে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, আধুনিক গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন “A New Framework for the Global Order: A Strategic Communication Perspective” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও দ্রুত ডিজিটালায়নশীল দেশে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে তথ্যকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রাপ্তি ও অবাধ তথ্য প্রবাহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা দরকার। এজন্য একটি নতুন, যুগোপযোগী ফ্রেমওয়ার্ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গড়ে তোলা হলে তা ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী, পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারে যোগ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্যানেলে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ উত্তর সাইপ্রাস, কাজাকিস্তান ও সিরিয়ার মন্ত্রীরাও অংশ নেন। জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যে প্রযুক্তি-নির্ভর কৌশলগত যোগাযোগ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় ভবিষ্যতে একটি কার্যকর কৌশলগত যোগাযোগ কাঠামো গঠনে সহায়ক হবে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সামিটকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রযুক্তি-নির্ভর সমাধানই ভুয়া তথ্য মোকাবিলা ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের মূল চাবিকাঠি।
ডিবিটেক/এসএমএস/ইকে



