প্রকৌশলীদের এক মঞ্চে রাজনীতিকরা

আমির খসরুর প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতা জুড়ে দিলেন এহসান জোবায়ের

জবাবদিহীতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি-জামাতকে এক হওয়ার আহ্বান মজিবুর রহমানের

আমির খসরুর প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতা জুড়ে দিলেন এহসান জোবায়ের
১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০০  

প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জ্ঞানকে সমন্বয় করে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে ব্যর্থ হলে জাতীয় উন্নয়নই স্থায়িত্ব পাবে না বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে আইটি সেক্টর, কলসেন্টার, নার্সিং, প্রচলিত কুটির শিল্প আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইটি উদ্যোক্তাদের পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অপরদিকে দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতা না থাকলে জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, আমাদের নিজ নিজ পেশায় দক্ষ হয়ে ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। 

১০ নভেম্বর, সোমবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিবি ভবনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ’র (আইডিইবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘দক্ষ জনশক্তি-দেশ গঠনের মূল ভিত্তি’ শীর্ষক সেমিনারে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারা। এই সেমিনারে দেশের প্রধান সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জ্ঞানকে সমন্বয় করে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে ব্যর্থ হলে জাতীয় উন্নয়নই স্থায়িত্ব পাবে না। আর সেবাগ্রহীতাদের সরকারি দপ্তরে ধরনা দেওয়ার অর্থ হলো হয়রানি ও দুর্নীতি। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবার সুযোগ জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে অর্থ ও সময়ের অপচয় কমে আসবে। তাই ক্ষমতায় গেলে গ্রামীণ ভিত্তিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবে বিএনপি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করবে। তখন কাউকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে আসতে হবে না।  সরকার গঠনের এক বছরের মধ্যে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।  

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় বসে নয় জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি গ্রহণ করতে হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোনো মেগাপ্রকল্প নেওয়া হবে না। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা হবে।

‘প্রকৌশলীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়’ মন্তব্য করে অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে দেয়া বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, বাংলাদেশে এখন দুটি মৌলিক কাজ করা দরকার। একটা হচ্ছে, দেশের জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। অপরটি হলো নতুন প্রজন্মকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অত্যন্ত উন্নত মানের প্রযুক্তি ও নৈতিকতা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতা না থাকলে জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না। অদক্ষ প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা করতে হবে।

রানা প্লাজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের ভুলে একজন রোগী মারা যায়। আর একজন প্রকৌশলীর ভুলের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। একজন প্রকৌশলীর দায়িত্ব মানবিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা।  

তিনি আরও বলেন, আমাদের সব অর্জনগুলো দুর্নীতি খেয়ে ফেলছে। অসততার জন্য আমরা সব হারিয়ে ফেলছি। তাই গত সোয়া এক বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদ সিস্টেম ঠেকাতে সংস্কারের প্রস্তাব করছি। কিন্তু ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টে আবারও এক ব্যক্তির কাছে জিম্মি হওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। আমি মনে করি এই জাতি আর বার বার হুমড়ি খেয়ে পড়তে চায় না। আমরা ১০ টাকা দামের চাল আর ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার কথা বলবো না। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা যে যে পেশায় আছি সেখান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।     

একই সেমিনারে ‘বিএনপি-জমায়াতের একাট্টা’ হতে আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেছেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ১৫ বছর ধরে একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, জেল-জুলুম সহ্য করেছে, অসংখ্য কর্মী আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, এমনকি অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছেন। অথচ আজ বিএনপি–জামায়াতের মধ্যে বিভেদ ও ঘৃণার দেয়াল কেন? বিএনপি–জামায়াতের আজকের এই ভেদাভেদের মূল কারণ হচ্ছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই তারা আজ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে।

মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা এক কঠিন রাজনৈতিক সময় অতিক্রম করছি। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে যে ক্ষমতার লড়াই চলছে, তা বন্ধ করে ঐক্যের পথে আসতে হবে। আগামী পাঁচ বছর বিএনপি ও জামায়াতকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদে ও সরকারে থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাই। হাসিনা যদি পালিয়ে না গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতেন, তাহলে বিএনপি-জামায়াত ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে অংশ নিত। এখন একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ না করে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতিতে ফেরার সময় এসেছে।’

রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন রাজনৈতিক দলের ইশতেহার বিশ্বাস করে না। কারণ, আমরা প্রতিশ্রুতি দিই, কিন্তু তা রাখি না। এ জন্য আমাদের নেতাদের মধ্যে সততা, জবাবদিহি ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিইবি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ।

আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ,  গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম।