দর্শকদের কাঁদাচ্ছে ইউটিউব ফিল্ম ‘ফ্যামিলি ম্যান’
‘তোমাদের গল্প’ ও ‘সম্পর্কের গল্প’র পর মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনীর নতুন ইউটিউব ফিল্ম ‘ফ্যামিলি ম্যান’ দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছে। বাস্তব জীবনের প্রতিফলন, অসাধারণ নির্মাণ, অনবদ্য অভিনয় ও আবেগপ্রবণ করে তোলা সুরের সম্মিলনে পারিবারিক গল্পের এই কন্টেন্ট দেখে অশ্রুসজল হয়েছেন সবাই।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইউটিউবে সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে ‘ফ্যামিলি ম্যান’। নির্মাতা রাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, একদিনেই ৩০ লাখ ভিউ পেয়েছে ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ইউটিউব ফিল্ম। এরমধ্যে ২২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটেই এর ভিউ ছাড়িয়েছে দুই মিলিয়নের ঘর। এতে মন্তব্য পড়েছে ১০ হাজারের বেশি।
মধ্যবিত্ত পরিবারের রমজান মাস ও রোজার ঈদ যেমন কাটে, সেই বাস্তবতা নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘ফ্যামিলি ম্যান’। সিদ্দিক আহমেদের লেখা গল্পে মামুন ও নীলু একে অপরকে ভালোবাসে। নীলুর বাবা-মা ধনী। মামুন ঢাকায় স্বল্প বেতনের চাকরি করে। গ্রামে তার মা, ছোট বোন ও দাদা। ঈদে তাদের জন্য নতুন পোশাক কেনার কথা ভেবে সাদামাটা ইফতার করে মামুন। সেহরিতে বাসি ভাত খায়। বোনাস না পেয়েও নিজের জন্য কিছু না কিনে সবার জন্য ঈদ উপহার নিয়ে গ্রামে যায় সে। একদিকে তার কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে নীলুর ভালোবাসা।
‘ফ্যামিলি ম্যান’-এর বেশিরভাগ দৃশ্য দেখে কেঁদেছেন দর্শকেরা। প্রবাসীদের অনেকে এই নাটকের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়ে ইউটিউবে মন্তব্যের ঘরে ভালো লাগার অনুভূতি জানিয়েছেন। দর্শকদের বিশেষণে এটি, ‘এই ঈদের সেরা নাটক।’
মামুন চরিত্রে ফারহান আহমেদ জোভান এবং নীলু চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী। নিজের পরিবারের জন্য নিবেদিত তরুণের চরিত্রে জোভানের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা। মামুনের মায়ের ভূমিকায় মনিরা আক্তার মিঠু এবং মামুনের দাদার চরিত্রে সোলায়মান খোকার অভিনয়ও সবাইকে আবেগপ্রবণ করেছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ তরুণী নীলু চরিত্রে তটিনীর অভিব্যক্তি মন ছুঁয়েছে দর্শকদের। জোভান, তটিনী ও মনিরা মিঠুর কান্নার দৃশ্যগুলোর কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন অনেকে।
মো. শাহিন আলম নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘শুধু একটি নাটক না, এটি বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। পরিবারের দায়িত্ব, ভালোবাসা, জীবন সংগ্রামসহ সবকিছু সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে এতে। এর প্রতিটি দৃশ্য মনে দাগ কেটে যায়। অভিনয়ে চরিত্রগুলো ছিল একদম জীবন্ত, যেন আমাদের আশেপাশের মানুষদের গল্পই দেখছি। সত্যি বলতে, এমন নাটক বারবার দেখতে ইচ্ছে করে।’
তারেক রনি নামের একজন লিখেছেন, ‘নাটক দেখতে দেখতে কেঁদেছি। দেখার পর টানা এক ঘণ্টা কান্না এসেছে। মধ্যবিত্ত সন্তানেরা সত্যিই ফ্যামিলি ম্যান।’
মো. সোহরাব হোসেন নামের একজন লিখেছেন, ‘নাটকটি দেখে কেঁদেছি। আমারও বাবা নেই, কিন্তু আমার একটা ভাই নামক বটগাছ আছে, যে কিনা বাবা হারানোর কষ্ট বুঝতে দেয়নি। কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম বড় ভাই একটা ফ্যামিলির জন্য কত কষ্ট করে। নাটকটির সঙ্গে আমার বড় ভাইয়ের জীবন মিলে গেছে। আমার বাবা যখন মারা গেছে তখন আমার ভাইয়ের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ওই বয়সেই আমার ভাই পুরো ফ্যামিলির দায়িত্ব কাঁধে নেয়।’
বাস্তবমুখী কাজ উপহার দেয়ায় পরিচালক রাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেহেদি হাসান নামের একজন লিখেছেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র, তখন থেকেই আমার আব্বা অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় চাকরি করতে পারেন না। এরপর থেকে কখন যে আমার পরিবারের ফ্যামিলি ম্যান হয়ে গেলাম নিজেও জানি না। টিউশনি আর ব্যাচ পড়িয়ে আব্বা ও মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচ জোগাতে হয়। নাটকটি দেখে নিজের পরিবারের সঙ্গে অনেক মিল খুঁজে পাই।’
প্রবাসীরা অনেকে ইউটিউবে মন্তব্য করেছেন। রিয়াজ হোসেন নামের এক দর্শকের মন্তব্য, ‘এই গল্পের সঙ্গে হাজারো প্রবাসীর জীবনের গল্প মিলে যায়। ভালো থাকুক সকল মধ্যবিত্ত।’
শাকিব রানা নামের একজন প্রবাসী লিখেছেন, ‘নাটকটি দেখে মনের অজান্তেই পানি চলে এলো। মধ্যবিত্তের জীবনে টানাপোড়েন লেগে থাকে সবসময়ই। সারা জীবন কষ্ট করে যাই সবার জন্য, দিন শেষে নীরবে কান্না করি।’



