চাঁদা না দেয়ায়
রাজশাহীতে বিটিআরসি কর্মকর্তা জখম
রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক উপ-পরিচালকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। হামলায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তার হাতের রগ কেটে গেছে বলে জানা গেছে।
আহত কর্মকর্তার নাম ইসরাফিল হক (৬০)। তিনি বিটিআরসির উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত। আর অভিযুক্ত মিম (২৬) রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ইসরাফিল হকের স্ত্রী নাসরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, "আমরা ওই এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণ করছি। দীর্ঘদিন ধরে মিম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন কায়দায় আমাদের বাধা দিয়ে আসছে। তারা কখনো পাথর বা বালুর সাপ্লাই দেওয়ার কাজ দাবি করে, আবার কখনো রাস্তা নোংরা করার অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। মূলত কাজ দেওয়ার নামে তারা আমাদের ওপর জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিল।"
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে ৫০ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করেছে। আজ ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে চাঁদা না দেওয়ার জেরে মিম তার সহযোগীদের নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়।
আহত কর্মকর্তার ভাতিজা মনিরুল হক অঞ্জন জানান, আজ সকালে স্থানীয়দের নিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনার পর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছিল। বিকেলে তার চাচা (ইসরাফিল হক) বাড়ির কন্ট্রাক্টরের সাথে কথা বলতে বাইরে গেলে মোহন নামের একজনের আদেশে মিম, তৌকির ও মোহন হটাৎ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি ও যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে ইসরাফিল হকের সাথে প্রতিবেশী মোহনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তবে চাঁদা দাবির বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গুরুতর আহত অবস্থায় ইসরাফিল হককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানাগেছে, ৮ মার্চ, রবিবার সন্ধ্যার সময় এ ঘটনা ঘটে। ৯ মার্চ, সোমবার, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় বের হয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন আহত বিটিআরসি কর্মকর্তা ইসরাফিল হক।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে তিনি নগরের মহিষবাথান এলাকায় তাঁর তিন কাঠা জমিতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। শুরু থেকেই স্থানীয় মারুফ হোসেন, মিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কখনো বালু-পাথর সরবরাহ, কখনো বাসার পাশে জায়গা রাখা নিয়ে, কখনো ঠিকাদারি বা রাস্তা ব্যবহারের কথা বলে লাখ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এর আগে কিছু টাকা দিয়েছেন।
ইসরাফিল হক বলেন, ‘আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। বাড়ি করার জন্যই ছুটি নিয়ে এসেছিলাম। বাড়ি করার সময় বিভিন্নভাবে আমার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। গতকাল ইফতারের আগে প্রায় ২৫ জনের একটি দল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
দুর্ঘটনার পর ইসরাফিল হকের স্ত্রী বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ৫ থেকে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মারুফ হোসেন, মিম, তৌকির, নাহিদ, মাহিন, ইঞ্জিনিয়ার নাবিল ওরফে রিপনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিদের তিনি চেনেন না।
এ বিষয়ে মারুফ হোসেনকে ফোন করা হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, ‘বাড়ি করার সময় পাশে জায়গা ছাড়া নিয়ে সমস্যার বিষয়টি তারা জানতেন। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চললে এলাকার মুরুব্বি ও পুলিশ মিলে সমাধানের চেষ্টা করেছে। ঘটনার দিন বিকেলে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। মামলা নেওয়া হয়েছে এবং চাঁদা দাবির কথাও বলা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিবিটেক/এমকে/ইকে







