মেটার স্মার্ট গ্লাসের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
মেটার রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত বিশ্বের অপর প্রান্তের অপরিচিত লোকজন দেখছে বলে এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সুইডিশ সংবাদমাধ্যমের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মেটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। খবর ফক্স নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়ার নাইরোবিতে কর্মরত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সামার কর্মীরা মেটার এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাসের ফুটেজ পর্যালোচনা করে থাকেন। এসব ফুটেজে তারা দেখেছেন বাথরুমে যাওয়া, পোশাক পরিবর্তন এবং যৌন কর্মকাণ্ডের মতো ব্যক্তিগত মুহূর্ত। একজন কর্মী জানান, কখনও কখনও ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্যও দেখা যায় এসব ফুটেজে। মুখমণ্ডল অস্পষ্ট করার প্রযুক্তি প্রায়শই কাজ না করায় এসব মুহূর্ত পরিষ্কারভাবে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটা ও তার অংশীদার প্রতিষ্ঠান লুক্সোটিকার বিরুদ্ধে সম্মিলিত মামলা (ক্লাস অ্যাকশন) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, “গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ডিজাইন করা” বলে বিপণন করা এই গ্লাস আসলে ব্যবহারকারীর সবচেয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্ত বিশ্বের অপর প্রান্তের অপরিচিত লোকজনকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনার অফিস (আইসিও) বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
মেটা তাদের অবস্থানে অটল থেকে বলেছে, গোপনীয়তা রক্ষায় তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, “রে-ব্যান মেটা গ্লাস ব্যবহারকারীদের হাত-মুক্তভাবে এআই ব্যবহার করতে সহায়তা করে। ব্যবহারকারীরা যদি তাদের তোলা ছবি বা ভিডিও মেটা বা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে না চান, তা তাদের ডিভাইসেই থাকে।
মেটা এআই-এর সঙ্গে কনটেন্ট শেয়ার করলে, অন্যান্য কোম্পানির মতো আমরাও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে মাঝে মাঝে ঠিকাদার নিয়োগ করে ডেটা পর্যালোচনা করাই। আমরা ডেটা ফিল্টার করে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ নিই”।
উল্লেখ্য, গত বছর মেটার এই স্মার্ট গ্লাসের বিক্রি ৭০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়েছে, যা আগের দুই বছরের মোট বিক্রির তিনগুণেরও বেশি। মেটার গোপনীয়তা নীতি সম্প্রতি আপডেট করে হে মেটা ভয়েস কমান্ড বন্ধ না করা পর্যন্ত এআই ক্যামেরা ফিচার সক্রিয় রাখার এবং ভয়েস রেকর্ডিং ক্লাউডে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি







