২০২৭ নাগাদ এআই চিপ বিক্রি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রত্যাশা ব্রডকমের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের বাজারে বড় সাফল্যের পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ব্রডকম। বুধবার (৪ মার্চ) এক আয় বিবরণীতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের এআই চিপ থেকে বার্ষিক রাজস্ব ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই খাতে বর্তমানে বিশ্ববাজারে শীর্ষে থাকা এনভিডিয়ার সঙ্গেই এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে হাঁটছে ব্রডকম। খবর রয়টার্স।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হক তান এক কনফারেন্স কলে বলেন, “২০২৭ সালের জন্য আমাদের দৃশ্যমানতা নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়েছে। আমরা এখন পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, কেবল চিপ থেকেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি এআই রাজস্ব অর্জন সম্ভব।”
ব্রডকম জানায়, বর্তমান প্রান্তিকে (দ্বিতীয় প্রান্তিক) তাদের এআই চিপ থেকে আয় হবে ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
প্রথম প্রান্তিকে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ব্রডকমের রাজস্ব বেড়েছে ২৯ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে। এআই ব্যবসা থেকে আয় ১০৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
আলফাবেট, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছর এআই পরিকাঠামো গড়তে কমপক্ষে ৬৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রডকম সম্পূর্ণ এআই চিপ নিজে ডিজাইন না করে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টম চিপ তৈরিতে সহায়তা করে। গুগলের টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ) এবং ওপেনএআই-এর নিজস্ব প্রসেসর তৈরিতে কাজ করছে ব্রডকম। কোম্পানিটির প্রকৌশলীরা প্রাথমিক নকশাকে চিপের ভৌত কাঠামোয় রূপান্তরিত করেন, যা পরবর্তীতে টিএসএমসির মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে।
ব্রডকমের হক তান জানান, এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিকের জন্য ২০২৬ সালে ১ গিগাওয়াটের টিপিইউ সরবরাহ করা হবে এবং ২০২৭ সালে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৩ গিগাওয়াটে। ওপেনএআই-এর প্রথম এআই চিপ ২০২৭ সালে জাহাজীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ব্রডকম।
মেটা প্ল্যাটফর্মস নিয়েও কাজ করছে ব্রডকম। সম্প্রতি মেটা নিজস্ব কাস্টম সিলিকন তৈরির পরিকল্পনা করছে বলে খবর বের হলেও, ব্রডকমের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখনো ‘সক্রিয় ও শক্তিশালী’ বলে জানিয়েছেন হক তান।
শক্তিশালী এই পূর্বাভাসের পর ব্রডকমের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।
ডিবিটেক/বিএমটি







