নির্বিঘ্ন ইন্টারনেট সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টা যান চলাচলের অনুমতি চায় আইএসপিএবি
সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত কাভার্ড ভ্যান ও যানবাহনগুলোকে ২৪ ঘণ্টা সড়কে চলাচলের আইনি অনুমোদন চেয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। ২১ জানুয়ারি, বুধবার ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।
আইএসপিএবি-র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁঞা স্বাক্ষরিত ওই পত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইন্টারনেট মানুষের মৌলিক অধিকার এবং দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, ব্যাংকিং ও শিক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো পুরোপুরি ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকারী যানবাহনগুলো প্রায়ই রিকুইজিশন ও জরিমানার মুখে পড়ছে।
সংগঠনটি জানায়, অপটিক্যাল ফাইবার, রাউটার, সুইচ এবং জরুরি মেইনটেন্যান্স সামগ্রী পরিবহনের জন্য প্রতিটি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের কিছু কাভার্ড পিকআপ ভ্যান সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হয়। নেটওয়ার্কে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত মেরামতের জন্য এসব যানবাহনের ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচল অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পুলিশের রিকুইজিশন ও জরিমানার কারণে মেরামত কাজে বিলম্ব ঘটছে, যার ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইএসপিগুলো বিগত ২৫ বছর ধরে দেশে প্রযুক্তির প্রসারে কাজ করছে। সরকার ইতিমধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ না করার জন্য আইন পাস করেছে, যা এই সেবার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। এমতাবস্থায়, জনস্বার্থে ইন্টারনেট সেবাকে ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে বিবেচনা করে এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলোকে ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশি বা রিকুইজিশনের আওতামুক্ত রেখে নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই আবেদনের অনুলিপি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যানকেও পাঠানো হয়েছে। আইএসপিএবি আশা করছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে দেশে ইন্টারনেটের মান ও স্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম







