কারা পাবেন, কীভাবে পাবেন ফ্রিল্যান্সার আইডি?
দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ১৩ জানুয়ারি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল। প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের পর উপস্থিত ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে একজন ফ্রিল্যান্সারকে তিন বছর মেয়াদী আইডি কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়।
কারা পাবেন এই আইডি?
আইডি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফাইভার বা আপওয়ার্কের মতো স্বীকৃত প্লাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত আয়ের ভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড দেয়া হবে। এক্ষত্রে শেষ ১২ মাসে ন্যূনতম ৫০ ডলার বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ দিতে হবে ফ্রেশার ফ্রিল্যান্সারকে। আর চ্যালেঞ্জারদের জন্য বছরে ৫০–৫,০০০ ডলার এবং ফ্রিল্যান্সার লিডারদের ক্ষেত্রে ৫,০০০ ডলারের বেশি আয়ের প্রমাণ থাকতে হবে। সব প্রমাণ দিয়ে অনলাইনে আবেদন করলে অনলাইনেই তা ভেরিফিকেশন ও বারকোড যুক্ত প্রিন্টেবল কার্ড ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন একজন মুক্ত পেশাজীবি।
কী সুবিধা পাবেন?
নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। এছাড়াও একই মার্কেটপ্লেস ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে ভবিষ্যতে সুবিধা বাড়তে পারে। শুরুতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে আনার রেমিটেন্সে ৪ শতাংশ ইনসেনটিভ না থাকলেও ২.৫ শতাংশ প্রাপ্তির বিষয়টি সহজতর হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অতীতের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের আডি ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদন ফি, নবায়ন ফি ও প্রসেসিং ফিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট হয়রানি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এইসঙ্গে ব্যতীত অন্য সব ‘ভুয়া ওয়েবসাইট’ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
জানাগেছে, আইডি ভেরিফিকেশনে একটি রিসোর্স পুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের ২৯ জন প্রকৌশলী। কারিগরি সহায়তার জন্য ৪ জন সাপোর্ট এক্সপার্ট, শেয়ারড রিসোর্স পুল হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের পাশে থাকবেন। খুব শিগগিরই এপিআই (API) ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু হবে। এপিআই ভেরিফিকেশনের দুই স্তর নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ইতিমধ্যে সাইটের ভিএপিটি (VAPT) সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকেই সাইন আপ এবং ফ্রিল্যান্সার আইডির জন্য আবেদন করা যাবে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রিল্যান্সারের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডার ও বাংলাদেশ কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাজ করবেন। আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফরমাল চিঠি পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে এই ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডাররা স্বীকৃত পেমেন্ট মেথডে বার্ষিক ৫০ ডলারের মার্জিনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে, ব্যাংকিং ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।
আগে যে সকল ফ্রিল্যান্সাররা টাকা পয়সা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন তাদের বিষয়ে আইসিটি বিভাগের পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবু সাঈদ বলেন, যদি কেউ অভিযোগ করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অংশীজন সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এবং বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। অংশীজন সভায় ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আলোচনা হলেও দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানাগেছে। একইসঙ্গে পেপ্যাল ইস্যুতেও কাজ এগোলেও, কার্যক্রম শুরু হতে আর কিছু সময় লাগবে বলে জানানো হয়।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম







