আফতাবনগরে বুয়েটে তৈরি পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা উদ্বোধন

আফতাবনগরে বুয়েটে তৈরি পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা উদ্বোধন
৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩১  

রাজধানীর আফতাবনগরে নকশাভিত্তিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করে প্রথমবারের মতো ই-রিকশার পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষ নকশায় তৈরি তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা ৩ জানুয়ারি, শনিবার থেকে বাড্ডা-রামপুরা সড়ক থেকে আফতাবনগরে প্রবেশের রাস্তা ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।

এদিন সকালে আফতাবনগরের আড্ডার মোড় এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ই-রিকশার উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আয়োজনে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন; প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুল হাফিজ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম ধাপে পল্টন, ধানমন্ডি ও উত্তরায় ই-রিকশা পাইলটিং আকারে চালু করা হয়েছিল। এবার আফতাবনগরে এ রিকশা চালু করা হচ্ছে। রিকশাচালকদের অনেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারপর তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে। লাইসেন্সধারী চালকরা ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনে নির্ধারিত এলাকার সড়কে চালাতে পারবেন। ভাড়া ও গতিসীমা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেবে।

জানাগেছে, নতুন এ ই-রিকশায় লিথিয়াম ৩৮ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একবার চার্জ দিলে ৭০-৮০ কিলোমিটার পথ চালানো যাবে। তাছাড়া আরও কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় চালকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে ই-রিকশা চালানোয় আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

‘আফতাবনগরে বুয়েট উদ্ভাবিত তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ঢাকায় যেসব গাড়ি চলাচল করে, তাতে দেখা যায় তাদের ইঞ্জিনের গতি ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি ৬-৭ কিলোমিটার। এতে উচ্চগতির ইঞ্জিন ব্যবহার করা গাড়িগুলোতে ফুয়েলের ব্যাপক অপচয় ঘটছে। সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, গড় গতি কম, তারপরও দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এটার কারণ হলো বিশৃঙ্খলা, নিয়ম না মানা। ঢাকায় রাস্তা কম, প্রসারিত না; এটা যেমন ঠিক। তেমনি যে রাস্তা আছে, তা শৃঙ্খলা মেনে ব্যবহার করে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে নিরাপদ যাত্রাও নিশ্চিত করা সম্ভব। সেজন্য আমরা বুয়েটের তৈরি ই-রিকশা চালু করছি। চারটি রুটে এ রিকশা পাইলটিং হিসেবে চালানো হচ্ছে। দ্রুত ই-রিকশা পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

নতুন এই সেবা নিয়ে ডিএনসিসির মুখপাত্র জোবায়ের হোসেন বলেন, পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিরাপত্তা মান সন্তোষজনক হলে নগর পরিবহনে ধাপে ধাপে এর সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হবে।

ডিবিটেক/এটিও/এমইউএম