বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার ষষ্ঠ বার্ষিকীতে ফের ভাইরাল পুরোনো পোস্ট

আবরার ফাহাদকে নিয়ে নানা আয়োজন

আবরার ফাহাদকে নিয়ে নানা আয়োজন
৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০০:০৯  
৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:১৮  


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকাসহ দেশের সব শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। ঢাকার প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন আবরার ফাহাদের বাবা। এছাড়াও জাতির আত্মমর্যাদা, স্বাধীন চিন্তা ও প্রতিরোধের প্রতীক শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাত দিবস উপলক্ষে ৭ অক্টোবরকে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বিকেল ৩টায় আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রাজধানীর পলাশী মোড়ে স্মরণসভা হবে। এসময় পলাশী মোড়ে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’ উদ্বোধন করবেন  আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। 

২০২০ সালের ৭ অক্টোবর, আবরার ফাহাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে সর্বপ্রথম ৮ স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। যার নেতৃত্ব দেন আখতার হোসেন। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে তা ভেঙে ফেলা হয়।  

আবরার ফাহাদ দিবস উপলক্ষে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে  বলেন, ‘আবরার ফাহাদের শাহাদাত শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতীক। আমরা সবাই মিলে তার আত্মত্যাগকে ধারণ করে আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলব, যেন প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে ওঠে।তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করতে এবং তরুণদের মধ্যে শপথ জাগ্রত করার আহ্বান জানান যে, কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য, প্রভাব বা অন্যায়ের কাছে আমরা কখনো মাথানত করব না।

শহীদ আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও প্রেরণার বাতিঘর উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানীকে কুপিয়ে হত্যার মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে ছাত্র খুন পুনরায় শুরু করে৷ দীর্ঘ নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিবাদের পর শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাত গোটা জাতিকে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।

বিরোধী মতাদর্শ লালন করলেই হত্যা করার যে বৈধতা আওয়ামী লীগ উৎপাদন করেছিল, তা ক্রমে প্রতিরোধের মুখে পড়ে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একই সঙ্গে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধিপত্যবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে চলমান এ লড়াই এক নতুন মাত্রা পায়। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী এই লড়াইয়ের পূর্ণতা আসে ২০২৪ সালে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবে; শহীদ আবু সাঈদ, শান্ত, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আলী রায়হান, তাহির, রিয়া গোপ ও নাসিমাদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে।

এদিকে ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নৃশংসভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এ দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার বিকালে প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। 

শিল্পকলা একাডেমির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘আবরার ফাহাদ : বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের নয়া প্রতীক ও আমাদের সংস্কৃতি’। এ ছাড়া আবরার ফাহাদের সাহস আর সংগ্রামকে উপজীব্য করে নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারি ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’ সারাদেশের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একযোগে দেখানো হবে।

অপরদিকে সোমবার রাত থেকে আবারও ভাইরাল হয়ে উঠেছে আবরার ফাহাদের একটি পুরোনো ফেসবুক স্ট্যাটাস। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর পোস্ট করা  বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে লেখা ওই স্ট্যাটাসটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়ে চার লাখের বেশি লাইক ও ৭৩ হাজারের বেশি শেয়ার  হয়েছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। মূলত তার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টটি ফের আলোচনায় এসেছে। 

ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে  উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর  ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।আবরার ফাহাদ আরও লিখেছিলেন, কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব। কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। 

তিনি লিখেন, হয়ত এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন- ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’