নেপালে এক্স ও ফেসবুক বন্ধের ঘোষণা
ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউবসহ জনপ্রিয় বেশির ভাগ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে নেপাল সরকার। তবে টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবাজ এবং পপো লাইভ চালু থাকছে।
প্ল্যাটফর্মগুলো নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে এ ৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনলাইনে বিদ্বেষ, গুজব ও সাইবার অপরাধ ঠেকাতেই নিবন্ধনের পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। নেপাল সরকারের মতে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ঘৃণা এবং গুজব ছড়াচ্ছে, সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে।
এ নিয়ে নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং বলেছেন, নেপালে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত প্রায় দুই ডজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তারা তা মানেনি। তাই অবিলম্বে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। দেশটির তথ্য, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গজেন্দ্র কুমার ঠাকুর জানিয়েছেন, অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মগুলো এরই মধ্যে বন্ধ করা শুরু হয়েছে।
যেসব প্ল্যাটফর্মকে বুধবারের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য বলা হয়েছিল সেগুলো হলো, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, এক্স, রেডিট ও লিংকডইন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা গেছে।
তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে মৌলিক অধিকারে আঘাত হানার সঙ্গে তুলনা করছে ডিজিটাল রাইটস নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন। এর সভাপতি বলছেন, দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ খবর, বিনোদন ও ব্যবসার জন্য এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। বর্তমানে টিকটক ও ভাইবারসহ পাঁচটি প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধিত। এর মধ্যে দুটি আবার নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আছে।
ডিজিটাল রাইটস নেপাল নামের একটি সংগঠনের সভাপতি ভোলা নাথ ধুনগানা বলেন, হঠাৎ করেই বন্ধের ঘোষণা সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণ প্রকাশ করছে। এটি সরাসরি জনগণের মৌলিক অধিকারের আঘাত হানার মতো। সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা ভুল নয়। কিন্তু আমাদের আগে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। হঠাৎ করে বন্ধ করাটা নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের মতো দেখায়।
দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবাজ এবং পপো লাইভ ইতিমধ্যেই নিবন্ধন করেছে, কিন্তু ফেসবুকসহ কিছু প্ল্যাটফর্ম তা করেনি। নিবন্ধনের জন্য সরকার আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, যারা এই শর্ত মানবে না তাদের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নেপাল টেলিকমিউনিকেশনস অথরিটিকে (এনটিএ) অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যাক্সেস বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঠিক কোন কোন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়নি।







