কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ

কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ
২২ মে, ২০২৫ ১৪:৩৫  
২২ মে, ২০২৫ ১৫:৫৯  

শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। কুয়েটের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান গণমাধ্যমে বিষয়টি শেয়ার করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতাও আনাসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ৪ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম ও ১৮ মে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন করে আসছিলেন কুয়েটের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সবশেষ আজ বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলার পাদদেশে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন করেন শিক্ষকরা। সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে অন্তর্বর্তীকালীন ভাইস চ্যান্সেলরকে অপসারণ করিয়ে যোগ্য ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান চান তারা।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সহপাঠীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে কুয়েট। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ, রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। একপর্যায়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন।

একদিকে বন্ধ ক্যাম্পাস, অন্যদিকে অনশন। শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানে এক সময় নরম হয় প্রশাসন। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ বেশিরভাগ দাবি মেনে নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে উপাচার্য পদত্যাগের এক দফায় রূপ নেয়। যা দাগ কাটে সারাদেশে। ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন শিক্ষা উপদেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্ত কমিটি।

২৫ এপ্রিল কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস কে শরীফুল আলমকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

এরপর থেকে সব আন্দোলনের সমাপ্তির সঙ্গে স্বস্তি নিয়েই হলে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া চাপের মুখে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অব্যাহতির সিদ্ধান্তে ন্যায় বিচারের পরাজয় হয়েছে বলে মনে করেন কুয়েট শিক্ষক সমিতি।

১ মে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীকে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।