লিংকডইন অ্যাকাউন্ট খোয়ালেন কাইরান কাজী

১৬ জুন, ২০২৩ ০৮:৪৩  

খুব অল্প বয়স থেকেই প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে আসছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কিশোর কাইরান কাজী। দুই বছর বয়সেই পূর্ণাঙ্গ বাক্যে কথা বলতে পারতেন। ৯ বছর বয়সেই স্কুলের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরে লাস পজিটাস কলেজে। এরপর মাত্র ১১ বছর বয়সে সে কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়। ইন্টেন ল্যাবসা'তে একজন এআই রিসার্চ কো-অপ ফেলো হিসেবে ইন্টার্নশিপ করে।

গত বছর ব্ল্যাকবার্ড ডট এআই নামের এক সাইবার ইন্টেলিজেন্স ফার্মে চার মাস মেশিন লার্নিংয়ের ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করে। সেখানে সে সামাজিক মাধ্যমের আধেয় ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা শনাক্তের পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি তৈরি করে।

সবশেষ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জিং ও মজার সাক্ষাৎকার সফল ভাবে উৎরে মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রকৌশলীর চাকরিও বাগিয়ে নেয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে।

কিন্তু এরপরই এই বয়স বাধাতেই হারাতে হয়েছে পেশাদারদেরদের অনলাইন নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে। নিয়ম অনুযায়ী বয়স ১৬ বছর না হওয়ায় মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন এই সামাজিক মাধ্যমটি কাইরানকে নোটিশ দিয়ে তার একাউন্ট মুছে দিয়েছে। আর এজন্য লিংকড ইনের পরিবর্তে ইনস্ট্যাগ্রামে সংযুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এরপরইমেইল করে লিংকডইন জানিয়ে দেয়, এখানে একাউন্ট খুলতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ বছর হতে হবে। বয়স ১৬ হলে তাকে আবারও প্ল্যাটফর্মটিতে স্বাগত জানানো হবে এবং আপাতত তার প্রিমিয়াম সাবসক্রিপশন বাতিল করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের পর এক টুইটে কাইরান লেখেন, ‘এটা অযৌক্তিক, সেকেলে ননসেন্স। বিশ্বের অন্যতম ঈপ্সিত ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরিটি পাওয়ার জন্য আমি যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন, অথচ একটা পেশাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার জন্য আমি উপযুক্ত নই?’

আর ইনস্টাগ্রাম-এর পোস্টে কাইরান লিখেছে, তাকে লিংকডইন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ব্যতিক্রমী কাজটি করতেই পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

এবছরের জুনে সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্পেসএক্স-এ যোগ দিবে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে জন্ম নেয়া এই কিশোর। কাইরানের বাবার নাম মুস্তাহিদ কাজী একজন সাবেক কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার  এবং মা জুলিয়া কাজী । সে তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান।