গ্র্যাজুয়েটদে কর্মসংস্থানে প্রবাসীদের দূতের ভূমিকা পালনের আহ্বান
বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ চুকিয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট অন্তত এক বছর বেকার থাকে। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশের বয়স ৩০ বছর ছাড়িয়ে যায়। স্টেম শিক্ষা নিয়েও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৭-৮ লাখ মানুষ দেশের বােইরে যাচ্ছে। এখন প্রতিবছর ২৩-২৪ লাখ কর্মশক্তিতে অন্তর্ভূক্ত হয়। এর এক তৃতীয়াংশ,সাড়ে ৭ লাখ গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে। ২০ বছর আগে এই সংখ্যা ছিলো সর্বোচ্চ তিন লাখ। তাহলে কি আমাদের দেশের অর্থনীতি কি স্ট্রাকচারলি চেঞ্জ হয়ে গেছে? হোয়াইট কলার জব বেড়েছে? তা না হলে আমাদের কেন এতো গ্র্যাজুয়েট দরকার?
এনআরবি কনক্লেভ ২০২৪ এর প্যানেল আলোচনায় এসব প্রশ্ন তুলেছেন চাকরি খোঁজার অনলাইন প্লাটফর্ম বিডি জবস ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর।
নিজের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, দেশে দক্ষ জনবলের কোনো ঘাটতি নেই। সঙ্কটটা প্রত্যাশা কিংবা উচ্চাকাঙক্ষার। আমরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যা সৃষ্টি করেছি।
আলোচনায় পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১২ সালে বাংলাদেশে বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তির ৩.৮৫ ছিলো গ্রাজুয়েট। এর দশ বছর আগে এই সংখ্যা ছিলে ৩.৫ শতাংশ। দশ বছরে দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্ত গত দশ বছরে বেড়েছে তিন গুণ গ্র্যাজুয়েট বেড়েছে। এদেরকে বহন করার মতো প্রতিষ্ঠান আমাদের নেই। আগামী ৫ বছরেও হবে না। তাই আমাদের এখন হয় তাদের উদ্যোক্তা বানাতে হবে; নয়তো দেশের বাইরে পাঠাতে হবে।
ফাহিম বলেন, বেকার গ্রাজ্যুইটদের চাকরি পাইয়ে দিতে প্রবাসীদের ভূমিকাই বেশি। তাই সেখানকার এইচআর ম্যানেজারের সঙ্গে কানেক্ট করে দিতে পারেন। গ্রাজ্যুয়েটদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে পুশ করতে পারেন। এই কাজটাই ভারতীয় প্রবাসীরা করে শীর্ষে উঠেছে।
আরটিএস এন্টারপ্রাইজের সিইও জিসান কিংশুক হকের সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন জয় গ্রেইনস অ্যান্ড কোম্পানির প্রেসিডেন্ট তারিন আনোয়ার, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ ওয়ালিদ হোসাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাইবসিস (NybSys) প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাক আহমেদ।
মোস্তাক জানান, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, স্টেম এড্যুকেশনে পৃথিবী ৪০ শাতংশ ছাড়ালেও আমরা ১৫ শতাংশের নিচে। তাই ৩০০ জনকে ইন্টারভিউ নিয়ে শেষ তক তাকে স্পেন থেকে কর্মী নিয়োগ দিতে হয়। গত ১৫ বছরে আমরা অনেক দক্ষ জনশক্তিকে বিদেশে নিয়ে গেছেন।
এই সমস্যার সমাধান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গণিত পড়তে আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে। কেননা, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এক বছর আগে মোবাইল কংগ্রেসে দেখানোর জন্য ইন্টেলের জেনআই ডেল এ সংযুক্ত করেছে এ বিষয়ে শুন্য অভিজ্ঞতা থাকা বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। এরপর এক বছর আমার প্রতিষ্ঠানে করে বিদেশে চাকরি নিয়ে চলে গেছেন কেউ কেউ।
কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যতি কাউকে বিদেশে নেওয়া হয় তখন তার খরচটাও প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আবাদের একটা ভয় হচ্ছে উভয়ের মধ্যে বিশ্বস্ততার ঘাটতি।
আলোচনায় মোহাম্মাদ ওয়ালিদ হোসাইন জানান, গত আট বছর ধরে এডিবির অর্থায়নে দক্ষতা উন্নয়নে এসিআইপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে দেশের অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে ৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরই ধারাবিহকতায় শুরু হয়েছে স্কিল ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিনেশ অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিএপি)। এরপরও গত ২০২৩ সালে ৫২ হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে গেছে। প্রতি বছরই এটা বাড়ছে। কিন্তু তারা আর ফিরছে না। তাই তাদের সামনে ভালো সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে দক্ষতা উন্নয়নে এগিয়ে আসা দরকার। এজন্য প্রবাসী প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের ব্রেইন সার্কুলেশন প্রোগ্রামের অধীনে দেশে আনতে চাই।
দেশের গ্র্যাজুয়েটদের বিদেশে হোয়াইট কলার চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়াদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে বিমানের সিইও অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারিন আনোয়ার। তিনি বলেন, আমাদের কর্পোরেট পর্যায়ে প্রায় সবারই স্থানীয় অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু আমাদের ক্রস কালাচারাল এক্সপেরিয়েন্স দরকার। রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন খুবই দরকার। চীন থেকে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী আমেরিকায় পড়তে যায় তাদের ৮০ শতাংশই দেশে ফিরে যায়। তাই খান একাডেমির সালমান খান, ইউটিউব প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম, প্রিন্সস্টোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জাহিদ হাসান, ইনটেল বোর্ড চেয়ারম্যান ওমর ইশরাককে দেশে সংযুক্ত করে তাদের পদশ্রীর মতো স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া উচিত।
সেমিনারে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষের টেক ও স্টেম খাতে দক্ষতার ঘাটতি ঘুচে বহুজাতিক কোম্পানিতে বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রবাসীদের নিয়ে একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। একইসঙ্গে গ্র্যাজুয়েটদের স্থানীয় ভাবে চাকরি দেয়ার থেকে বিদেশে চাকরি পাইয়ে দিলে দেশের আয় বাড়বে।
সম্মেলনে অপন সেশনে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং প্রবাসী সম্পৃক্ততা বিষয়ে আলোচনা করেন বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এছাড়া হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্রুপ, ইউএইর চিফ এক্সপেরিয়েন্স অফিসার শাহরিয়ার পাভেল, সিআইপি ২০২৫ (এনআরবি) একটি অধিবেশন সঞ্চালনা করেন।







