মেমোরি চিপ সংকটে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির কারণে স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে বৈশ্বিক স্মার্টফোন খাত। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ ১১ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাব ধরলে এটি ২০১৩ সালের পর গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন সরবরাহের রেকর্ড।
চিপের এই তীব্র সংকটের বাজারেও সম্পূর্ণ উল্টো স্রোতে হেঁটেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রিমিয়াম আইফোন সিরিজের মজবুত চাহিদার ওপর ভর করে এবং দাম অপরিবর্তিত রেখে এই প্রান্তিকে অ্যাপলের ডিভাইস সরবরাহ উল্টো ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রেকর্ড সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ‘মার্কেট শেয়ার’ বা বাজারের অংশ নিজেদের দখলে নিয়েছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, চিপের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী মাসগুলোতে অ্যাপলও তাদের ফোনের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
মেমোরি চিপ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ
কাউন্টারপয়েন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা এখন সাধারণ কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স (স্মার্টফোন, ল্যাপটপ) খাতের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের গ্রাহকদের চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে বাজারে সাধারণ মেমোরি চিপের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। বাধ্য হয়ে স্মার্টফোন নির্মাতারা বর্ধিত যন্ত্রাংশের এই অতিরিক্ত খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেল (কম দামি) এবং মিড-রেঞ্জ (মাঝারি দামি) স্মার্টফোনগুলোর দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। আর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ফোন কেনার চাহিদা কমে গেছে।
শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থা
স্যামসাং: বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষস্থানটি পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান জায়ান্ট স্যামসাং। তাদের দখলে রয়েছে মোট বাজারের ২৪ শতাংশ শেয়ার। ভারতের মতো বড় বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যে দাম খুব বেশি না বাড়ানো, উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ফ্ল্যাগশিপ ‘গ্যালাক্সি এস২৬’ সিরিজের শক্তিশালী বিক্রির কল্যাণে তারা এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।
শাওমি, অপো ও ভিভো: বৈশ্বিক শীর্ষ পাঁচ স্মার্টফোন নির্মাতার মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়েছে চীনের শাওমি, অপো এবং ভিভো। যেহেতু এই ব্র্যান্ডগুলোর ব্যবসার একটি বিশাল অংশ এন্ট্রি এবং মিড-রেঞ্জ ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল, তাই চিপের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছে এবং তাদের ফোন সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
পূর্বাভাস
বাজারের এই মন্দাভাব সহজে কাটছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্বের পূর্বাভাস বজায় রেখে জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক স্মার্টফোন সরবরাহ প্রায় ১৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। একই সাথে তারা সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের এই তীব্র সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





