এআই এজেন্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘মল্টবুক’ কিনল মেটা

এআই এজেন্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘মল্টবুক’ কিনল মেটা
১১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৫৫  

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টদের জন্য তৈরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘মল্টবুক’ কিনে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে মল্টবুকের প্রতিষ্ঠাতারা মেটার এআই গবেষণা বিভাগে যোগ দেবেন। খবর রয়টার্স।

মল্টবুক মূলত একটি রেডিট-সদৃশ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কেবলমাত্র এআই চালিত বটরা নিজেদের মধ্যে কথোপকথন চালায়, কোড শেয়ার করে এবং তাদের মানব মালিকদের নিয়ে আলোচনা করে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্ম দ্রুত আলোচনায় আসে এবং কম্পিউটার কতটা মানবসদৃশ বুদ্ধিমত্তা অর্জন করেছে তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়।

খবরে বলা হয়, এই চুক্তির ফলে মল্টবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট শ্লিখট ও বেন পার মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসে যোগ দেবেন। আলেক্সান্ডার ওয়াং-এর নেতৃত্বাধীন এই ইউনিটে তারা আগামী ১৬ মার্চ থেকে কাজ শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও চুক্তির আর্থিক শর্তাবলি প্রকাশ করেনি মেটা।

মেটার একজন মুখপাত্র টেকক্রাঞ্চকে জানান, “মল্টবুক টিমের এমএসএল-এ যোগদান এআই এজেন্টদের ব্যক্তি ও ব্যবসার জন্য কাজ করার নতুন পথ উন্মুক্ত করবে। একটি অলওয়েজ-অন ডিরেক্টরির মাধ্যমে এজেন্টদের সংযুক্ত করার তাদের পদ্ধতি এই দ্রুত উন্নয়নশীল ক্ষেত্রে একটি অভিনব পদক্ষেপ” ।

প্রতিষ্ঠানটির অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ মল্টবুক প্রসঙ্গে বলেন, এজেন্টদের ‘মানুষের মতো কথা বলা’ তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেনি, কারণ মডেলগুলো মানব ডেটাতেই প্রশিক্ষিত। বরং মানুষের এই নেটওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করাটাই তার কাছে ‘বৈশিষ্ট্য নয়, বরং একটি বড় ত্রুটি’ হিসেবে বিবেচিত।

মল্টবুক ওপেনক্ল প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ক্লড, চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও গ্রকের মতো মডেলের সংযোগ ঘটায়। ওপেনক্ল-এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার স্টেইনবার্গারকে গত মাসে ওপেনএআই নিয়োগ দিয়েছে । ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান মল্টবুককে সম্ভাব্য ‘ক্ষণস্থায়ী ফ্যাড’ বলে উল্লেখ করলেও অন্তর্নিহিত প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

মল্টবুকের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল, যার ফলে ব্যক্তিগত বার্তা, ৬ হাজারের বেশি ইমেল ঠিকানা এবং ১০ লাখের বেশি ক্রেডেনশিয়াল ফাঁস হয়ে যায়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর এই সমস্যা সমাধান করা হয়।

ডিবিটেক/বিএমটি