বঙ্গোসাগরের আকাশে রহস্যময় সেই আলোর রেখাটি ছিল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার

শুক্রবার (৮ মে) বঙ্গোপসাগরের আকাশে দেখা রহস্যময় আলোর উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। অবশেষে জানা গেছে, সেটি ছিল ভারতের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৯ মে) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, শুক্রবার সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এমআইআরভি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে […] The post বঙ্গোসাগরের আকাশে রহস্যময় সেই আলোর রেখাটি ছিল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার f

বঙ্গোসাগরের আকাশে রহস্যময় সেই আলোর রেখাটি ছিল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার
১০ মে, ২০২৬ ১৮:২৫  

শুক্রবার (৮ মে) বঙ্গোপসাগরের আকাশে দেখা রহস্যময় আলোর উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। অবশেষে জানা গেছে, সেটি ছিল ভারতের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৯ মে) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, শুক্রবার সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এমআইআরভি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক ওয়ারহেড বা বোমা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা সম্ভব।

পরীক্ষাটি চালানো হয় ভারতের ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে, যা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। শুধু উড়িষ্যা নয়, ভারত থেকে শত কিলোমিটার দূরের কক্সবাজার থেকেও সেটি দেখা গেছে। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেডগুলো ভারত মহাসাগরের নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই এমআইআরভি প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো সম্ভব হয়, যা সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত।

প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ভারত তাদের আন্তঃমহাদেশীয় অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ছিল অগ্নি-৫-এর দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-৫ পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। এর মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘপাল্লার হামলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ভারতের অগ্নি সিরিজের অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র—অগ্নি-১, ২, ৩ ও ৪-এর পাল্লা ৭০০ কিলোমিটার থেকে সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে। অগ্নি-৫ যুক্ত হওয়ায় দেশটির কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি এত দূর থেকে দৃশ্যমান হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্ধ্যার ঠিক আগে বা পরে উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্গত গ্যাসের ধোঁয়া উচ্চ আকাশে সূর্যের শেষ আলো প্রতিফলিত করে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে সেটি অনেক দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগে বঙ্গোপসাগরের ওপর প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সতর্কতামূলক নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় পরিসরের নিরাপত্তা বলয় দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

The post বঙ্গোসাগরের আকাশে রহস্যময় সেই আলোর রেখাটি ছিল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net.