সাড়ে ৭ লাখ কর্মীকে ‘কোপাইলট’ দিচ্ছে অ্যাকসেঞ্চার

সাড়ে ৭ লাখ কর্মীকে ‘কোপাইলট’ দিচ্ছে অ্যাকসেঞ্চার
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫১  

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চার তাদের ৭ লাখ ৪৩ হাজার কর্মীর সবার জন্য মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী ‘কোপাইলট ৩৬৫’ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর জন্য চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত মাইক্রোসফটের সবচেয়ে বড় করপোরেট চুক্তি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান দুটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এই চুক্তির আর্থিক অংক প্রকাশ করা হয়নি।

মাইক্রোসফটের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে মাইক্রোসফটের ‘৩৬৫ এন্টারপ্রাইজ’ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ কোটি। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ গ্রাহক মাসে ৩০ ডলার খরচ করে এআই সেবা বা কোপাইলট ব্যবহার করেন। এআই প্রযুক্তিতে মাইক্রোসফট বিশাল অংকের বিনিয়োগ করলেও সেই তুলনায় আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। চলতি বছরে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দর প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাকসেঞ্চারের সাথে এই বিশাল চুক্তি মাইক্রোসফটের জন্য বড় একটি ব্যবসায়িক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উৎপাদনশীলতা নিয়ে অ্যাকসেঞ্চারের দাবি
অ্যাকসেঞ্চার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ কর্মীর ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রায় ৯৭ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, কোপাইলট ব্যবহারের ফলে তাদের নিয়মিত কাজগুলো আগের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। ৫৩ শতাংশ কর্মী দাবি করেছেন যে তাদের কাজের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অ্যাকসেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী জুলি সুইট বলেন, “আমাদের কর্মীরা এখন এআই-এর সহায়তায় অনেক বেশি সৃজনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোনিবেশ করতে পারছেন।”

কৌশল বদলাচ্ছে মাইক্রোসফট
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইক্রোসফট এখন কেবল ‘ওপেনএআই’-এর ওপর নির্ভর না করে ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর মতো অন্যান্য এআই মডেলগুলোও গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরছে। একইসাথে সোমবার জানা গেছে, ওপেনএআই-এর সাথে মাইক্রোসফটের বিশেষ বা ‘এক্সক্লুসিভ’ চুক্তির অবসান ঘটেছে। এর ফলে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখন মাইক্রোসফটের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাউড প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছেও তাদের প্রযুক্তি বিক্রি করতে পারবে।

অ্যাকসেঞ্চারের এই গণ-বিপ্লব এমন এক সময়ে ঘটল যখন কিছু সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনো সাধারণ কর্মীদের উৎপাদনশীলতায় বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে অ্যাকসেঞ্চারের এই উদ্যোগ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: রয়টার্স