‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আশীর্বাদ হয়ে এলেও কৃষকদের ভাবাচ্ছে ‘ভারী বৃষ্টির’ পূর্বাভাস

রংপুর: ডিজেল সংকট ও বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে আকস্মিক বৃষ্টি। শুকিয়ে যাওয়া বোরো খেত ভরে গেছে পানিতে। ফলে কমপক্ষে তিনটি সেচ সাশ্রয় হয়েছে, যা কৃষকের বাঁচাচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এতে কমবে বোরোর উৎপাদন খরচ। তবে অন্যদিকে, আবহাওয়া অফিসের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও কৃষকদের ভাবাচ্ছে। ডিজেলের দামবৃদ্ধি ও সংকটের মধ্যেই যেন […] The post ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আশীর্বাদ হয়ে এলেও কৃষকদের ভাবাচ্ছে ‘ভারী বৃষ্টির’ পূর্বাভাস first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sar

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আশীর্বাদ হয়ে এলেও কৃষকদের ভাবাচ্ছে ‘ভারী বৃষ্টির’ পূর্বাভাস
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১০  

রংপুর: ডিজেল সংকট ও বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে আকস্মিক বৃষ্টি। শুকিয়ে যাওয়া বোরো খেত ভরে গেছে পানিতে। ফলে কমপক্ষে তিনটি সেচ সাশ্রয় হয়েছে, যা কৃষকের বাঁচাচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এতে কমবে বোরোর উৎপাদন খরচ। তবে অন্যদিকে, আবহাওয়া অফিসের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও কৃষকদের ভাবাচ্ছে।

ডিজেলের দামবৃদ্ধি ও সংকটের মধ্যেই যেন প্রকৃতি নিজেই হয়ে উঠল কৃষকের বন্ধু। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি দোন (২৪ শতক) জমিতে একবার সেচ দিতে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ১২৫ টাকা। তিনবার সেচ দিতে খরচ হতো অন্তত ৩৭৫ টাকা। হিসাবে হেক্টরপ্রতি খরচ হতো প্রায় ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

এবার রংপুরে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এসব জমিতে তিনটি সেচ সাশ্রয় হওয়ায় কৃষকের মোট সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ এখন কৃষকের পকেটে থাকছে, যা আগে জ্বালানি খাতে ব্যয় হতো।

কৃষি অর্থনীতি ও জ্বালানি গবেষক রায়ান আহমেদ রাজু সারাবাংলা বলেন, ‘দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সাশ্রয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় চার জেলায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। এ ছাড়া, রংপুর বিভাগে সৌরশক্তি চালিত সেচ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে, যা প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় করছে। এবারের বৃষ্টি যেন এই সাশ্রয়ের তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।’

ডিজেল নিয়ে সংকটের মধ্যেই স্বস্তি নিয়ে এসেছে এই বৃষ্টি। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুরের কৃষক মাসুদার মন্ডল সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডিজেল নিয়ে সংকটের মধ্যে আমরা অনেক কৃষক ঠিকমতো সেচ দিতে পারিনি। শনিবার থেকে রংপুরে বৃষ্টি হওয়ায় খেতগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কমপক্ষে তিনটি সেচ আমাদের বেঁচে গেল। এতে ধানের আবাদ ভালো হবে।’

তবে তিনি আশঙ্কাও প্রকাশ করেন, ‘ভারী বৃষ্টি হতে থাকলে নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা যাবে। আমরা আবহাওয়া দেখে ফসলের দিকে নজর রাখছি।’

বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরের কৃষক দেবাশীষ রায় সারাবাংলাকে বলেন, ‘সার, কীটনাশকের দাম বেশির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছিল। বৃষ্টির কারণে সেচ কম লাগবে বলে কিছুটা লাঘব হবে। বর্তমানে আমার খেত পানিতে পরিপূর্ণ। এ ছাড়া, বৃষ্টিতে খেতে পানি জমায় নানা ধরনের পোকা-মাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা পাবে।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট কৃষকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ ছিল । দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় জ্বালানি সংকট সেচ কার্যক্রম ব্যাহত করছিল। রংপুর অঞ্চলের মোট বোরো আবাদের অর্ধেকের বেশি (৫৩%) ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল।

কৃষি অর্থনীতি ও জ্বালানি গবেষক রায়ান আহমেদ রাজু মনে করেন এই প্রেক্ষাপটে বৃষ্টি কৃষকদের জন্য যেন অমৃতসম। তিনি বলেন, ‘প্রতি হেক্টরে সেচ দিতে প্রায় ১৪৯ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তিনটি সেচ বাদ যাওয়ায় হেক্টরপ্রতি সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৪৫০ লিটার ডিজেল। এই ডিজেল কিনতে গেলে কৃষকদের খরচ হতো প্রায় ৪৫ হাজার টাকা (প্রতি লিটার ১০০ টাকা ধরে)। বর্তমানে খোলা বাজারে ডিজেল সরকারি দরের চেয়ে ৫০-৮০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে । সেক্ষেত্রে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বেশি।’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।’

আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘রংপুরে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি চার দিন ধরে চলমান থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। যেহেতু বজ্রপাত হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।’

এদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘রংপুরে বৃষ্টিপাত কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এতে কৃষকের সেচ সাশ্রয় হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। বর্তমানে ধানের প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময় খেতে পানির প্রয়োজন ছিল। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১২ দিন খেতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এমন আবহাওয়া বিরাজ করে তবে এবার কম সেচেই বোরো উৎপাদন করা যাবে। বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর, যেখানে আবাদ হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ২৩৫ হেক্টর। কৃষি বিভাগের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে।

The post ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আশীর্বাদ হয়ে এলেও কৃষকদের ভাবাচ্ছে ‘ভারী বৃষ্টির’ পূর্বাভাস first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net.