মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে নাসার কিউরিওসিটির বড় সাফল্য
মঙ্গল গ্রহে একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই রহস্যের জট খুলতে বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’ লাল গ্রহের বুকে এমন কিছু জৈব রাসায়নিকের সন্ধান পেয়েছে, যা জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের গেলে ক্রেটারের ‘গ্লেন টরিডন’ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত সাড়ে তিনশ কোটি বছরের পুরনো বালুপাথরের নমুনায় এই উপাদানগুলো পাওয়া গেছে। কিউরিওসিটি রোভার তার বিশেষ ল্যাবরেটরি ‘স্যাম’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর বাইরে একটি জটিল রাসায়নিক পরীক্ষা চালিয়ে ২০টিরও বেশি জৈব অণু শনাক্ত করেছে।
এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো ‘এন-হেটারোসাইকেল’ নামক অণুর সম্ভাব্য উপস্থিতি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই রাসায়নিকটি ডিএনএ এবং আরএনএ গঠনের মূল ভিত্তি। এর আগে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে বা সেখান থেকে আসা উল্কাপিন্ডে এই উপাদানের অস্তিত্ব কখনো পাওয়া যায়নি।
গবেষণার প্রধান লেখক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, “এই শনাক্তকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই গঠনগুলো নাইট্রোজেনযুক্ত জটিল অণুর পূর্বসূরী হতে পারে, যা জীবনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়।”
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে এই জৈব পদার্থগুলো কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকতে পারে। যদিও সরাসরি প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ এটি নয়, তবে এটি নিশ্চিত করে যে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাঁচামাল বা উপাদান উপস্থিত ছিল।
এই সাফল্যের পর ২০২৮ সালে মঙ্গলে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ এবং শনির চাঁদ টাইটানে নাসার ‘ড্রাগনফ্লাই’ অভিযানেও একই ধরনের পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট







