রুয়েটের নতুন নীতিমালায় মিলবে লাখ টাকার অনুদান

পিএইচডি গবেষণায় সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা অনুদান

পিএইচডি গবেষণায় সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা অনুদান
৮ মার্চ, ২০২৬ ০০:০০  

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে গবেষণা মঞ্জুরি সংক্রান্ত নীতিমালা ও পদ্ধতি হালনাগাদ করেছে। নতুন এ নীতিমালায় শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর গবেষকদের জন্য গবেষণা অনুদান, প্রকাশনা সম্মানী এবং সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণভাতাসহ বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এ নথিতে গবেষণা খাতে অর্থায়নের কাঠামো এবং অনুদান পাওয়ার শর্তাবলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অনুদান নির্দেশিকাকে অনুসরণ করা হয়েছে। এর ফলে রুয়েটে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নীতিমালার আওতায় শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্প ব্যয়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা সেমিনারে অংশগ্রহণের ভ্রমণভাতা, আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য প্রকাশনা অনুদান ও সম্মানী, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেইএএস সাময়িকী এবং গবেষণা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ গ্রন্থ প্রকাশনার ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় নবীন শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে বিশেষ গবেষণা মঞ্জুরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের অগ্রাধিকার দিয়ে এক বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত গবেষণা অনুদান দেওয়া হবে। তবে এ অনুদান পেতে হলে কমপক্ষে একটি সমালোচনামূলক মূল্যায়নভিত্তিক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ বাধ্যতামূলক। একইভাবে মাস্টার্স বা এমফিল পর্যায়ের গবেষকদের জন্য এক বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে সূচিবদ্ধ সাময়িকীতে অন্তত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের শর্ত রয়েছে।

পিএইচডি পর্যায়ের গবেষকদের জন্য বরাদ্দ আরও বড় করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের অধীনে খণ্ডকালীন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক এক বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা পর্যন্ত গবেষণা অনুদান পেতে পারবেন। অন্যদিকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী সক্রিয় শিক্ষকদের জন্য দুই বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকার উচ্চতর গবেষণা মঞ্জুরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পে গবেষণা সহকারী নিয়োগের সুযোগও থাকবে এবং কমপক্ষে দুটি সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরত অশিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত গবেষণা অনুদান রাখা হয়েছে, যেখানে অন্তত একটি সম্মেলন বা সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ বাধ্যতামূলক।

গবেষণা প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব ক্ষেত্রে ন্যূনতম বরাদ্দ সর্বোচ্চ সীমার ৬০ শতাংশের কম হবে না। প্রকল্প পরিচালক এককালীন এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ সম্মানী পাবেন, যার সর্বোচ্চ সীমা ৬০ হাজার টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থ দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে এবং মোট বরাদ্দের অন্তত ৬০ শতাংশ ব্যয় না করলে প্রকল্প পরিচালক সম্মানী পাবেন না।

উচ্চতর গবেষণা প্রকল্পে নিয়োজিত গবেষণা সহকারীরা মাসিক ২২ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন, যা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই অর্থ অন্য কোনো খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা সাময়িকীতে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য ভ্রমণ অনুদানের পৃথক নীতিমালা রাখা হয়েছে, যার আওতায় একজন শিক্ষক বছরে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্রমণভাতা পেতে পারবেন। তবে একটি গবেষণাপত্রের জন্য কেবল একজন লেখক এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশে উৎসাহ দিতে প্রকাশনা সম্মানীর বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রকাশনার মান অনুযায়ী প্রথম স্তরের সাময়িকীর জন্য ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্তরের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্তরের জন্য ১৫ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চতুর্থ স্তরের সমালোচনামূলক মূল্যায়নভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হলে ৬ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ দুটি প্রকাশনার জন্য সম্মানী পেতে পারবেন, যার সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি হলো গবেষণা। গবেষণা কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বাজেট বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং নির্ধারণে গবেষণা অন্যতম প্রধান সূচক। সে বিবেচনায় রুয়েটের অবস্থান বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করতে গবেষণার পরিধি ও মান বৃদ্ধির ওপর বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তার মতে, নতুন নীতিমালার ফলে উচ্চমানের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে এবং বিশেষ করে তরুণ শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর গবেষকেরা আরও উৎসাহিত হবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার গতি ও মান দুটোই বাড়বে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রুয়েটের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর প্রকৌশল ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, সাময়িকী প্রকাশ, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন, ফেলোশিপ ও পদক প্রদান এবং শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারের মতো বহুমুখী কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, সূচিবদ্ধ সাময়িকীতে প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে রুয়েটে গবেষণার মান ও গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি বৈশ্বিক গবেষণা অঙ্গনে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

ডিবিটেক/এসআইএস/ইকে