ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের তর্ক, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে হাসপাতালে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে তারা হাসপাতালে আগত রোগীদের কোনো সেবা দিচ্ছেন না। তবে হাসপাতালটির মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্য দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতোমধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে আছি।
তিনি আরও বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে রোগীসেবায় কোনো বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়নি।
এর আগে ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রথমে নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা ওয়ার্ডের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ দায়িত্বরতদের ওপর হামলা চালান। হামলায় এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করা হয় এবং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মী মারধরের শিকার হন। ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেন। পরে ডাক্তার ও স্টাফরা মিলে রোগীর স্বজনসহ তিনজনকে বেধড়ক পেটান। পুলিশ পরে গভীর রাতে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নগরের অন্য একটা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। হামলার বিষয়ে মামলা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। এ ছাড়া, হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (মিডিয়া) বলেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে তর্ক এবং মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল হাসপাতালে যায়। হামলার ঘটনায় কয়েকজন আটক আছেন। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর আছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডিবিটেক/এসভি/ ইকে







