ইন্টারনেট বন্ধ না চাইলে দিতে হবে ‘হ্যা’ ভোট

ইন্টারনেট বন্ধ না চাইলে দিতে হবে ‘হ্যা’ ভোট
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৬  

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। তবে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে একইদিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে ততটা সরব নয় রাজনৈতিক দলগুলো। নেটদুনিয়ায় কিছু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে দলীয় রাজনৈতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি চতুর্থ ‘গণভোট’। ফলে সংস্কার আর নাগরিক অধিকার ঢাকা পড়েছে চার দফায়। ১১ দফায় সংখ্যা গরিষ্ঠ ৭টি সংস্কারের বিষয় সম্পর্কেই অবগত নন সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে প্রচারণাতে শুধু কুণ্ঠাবোধই নয় বিভ্রান্তিও উঠে এসেছে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। আবার গুগল কিংবা এআইকে প্রশ্ন করলেও তুলে ধরছে চার সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়। সেখানেও অনুপস্থিত ১১ দফা।  

অথচ ১১ দফা সংস্কারের এই গণভোটে সংস্কারের মধ্যেই রয়েছে আর যেন কোন সরকারই ‘ইন্টারনেট ব্লাকআউট’ করার ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে এমন সংস্কারের প্রস্তাবনা। কিন্তু বিষয়টি জানেনই না অনেকেই। এমনটি ইন্টারনেট পেশাজীবি এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের মধ্যেও রয়েছে গণভোট নিয়ে মিশ্রপতিক্রিয়া।

কেননা, গণভোট নিয়ে তাদের সামনেও রয়েছে সংশয়। এ বিষয়ে একসময়ের ই-কমার্স ব্যবসায়ী নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, একেক জন একেক রকম বলছে। কোনোটির সঙ্গে মত আছে। কোনোটির সঙ্গে নয়। মনে হচ্ছে গণভোটে রাজনীতি বা পলিটিক্স একসাথে ঢুকে গেছে। তাই ভোট দিলে হ্যা-না দুটোতেই দিবো। 

দ্বিমতের চেয়ে একমতের সংখ্যা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দেখা গেলো তিনি মাত্র দুইটি বিষয়ে সন্দিহান। তাহলে কেন দুটোতেই দেবেন প্রশ্ন করতেই তিনি হেসে দেন। 

ইন্টারনেট ব্যাবসায়ীদের একজন নেতা বললেন, গণভোট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। ভোট নিয়ে রাজনীতকরা মুভমেন্ট করছে। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশন ব্যবসায়ীরা এখনো এ নিয়ে আলোচনায় বসেনি। তবে কেউ সংস্কারের বিপক্ষে নয়। যেদিকে রাজনীতিরা বলবে সেদিকেই যাবে সবাই। তবে আমরা চাই না কখনওই যেন ইন্টারনেট বন্ধ হয়। আমরা মনে করি সংস্কার না হলে দেশ আগাবে না। তবে এজন্য সচেতনতা তৈরি করা দরকার। 

এরপর কথা হয় রাজধানীর ভাটারা থানাধীন মুদী দোকানী বিপ্লব মিয়ার সঙ্গে। মোবাইল ফোনে কিছু একটা দেখছিলেন তিনি। তার কাছে গণভোট বিষয়ে জানতে চাইলে বললেন, গণভোটের কথা শুনছি কিন্তু বুঝি না। অহন পর্যন্ত একবারও ভোট দিবার পারি নাই। এইবার পারবু মনে অয়। এইডাতেই খুশী। 

এই যখন অবস্থা তখন গণভোট নিয়ে সচেনতা কার্যক্রমে সরব হয়েছে অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ নিয়ে একটি লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি ডোমেইনে পরিস্কার করা হয়েছে গণভোট বিষয়ে। এর একটি ডোমেইন https://gonovote.bd এবং অপরটি হলো https://gonovote.gov.bd। 

সংস্কারের এই তালিকায় তৃতীয় নম্বরেই রয়েছে মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বাগিয়ে ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ না করার সংস্কারের কথা। তাই আর কখনওই ইন্টারনেট ব্লাকআউট থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দেয়ার পক্ষে জনমত এখন বাড়তে শুরু করেছে।