“মব ভায়োলেন্স” নিয়ে ন্যারেটিভ তৈরী করে কীভাবে এটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলাফল হিসেবে গণমাধ্যমে দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মব ভায়োলেন্স জিনিসটা এখন এক বছর পরে এসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাথে মেলানো হচ্ছে।রাজনৈতিক সভা-সমাবেশকেও মব বলা হয়েছে। বিশেষ করে একটি দলের প্রধান নূরুল হক নূরকে মারধরের ক্ষেত্রে।
তিনি বলেন, “এই “মব ভায়োলেন্স” থেকে আরও অনেকগুলি ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। ঘুরেফিরে বয়ানটা এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, …আপনাদের মনে থাকবে, ৮ই আগস্টে, ৮ই আগস্টে বা ৬ আগস্ট হবে, সজীব ওয়াজেদ জয় কিন্তু একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, ‘‘মবোক্রেসি’’ বলে। আজকে বাংলাদেশকে ঘুরেফিরে ওই শব্দের ভিতর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা এখানে অনেক কিছু হয়তো সামাল দিতে পারি নাই ‘
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, মবেরও তো একটা সমাজতত্ত্ব আছে। মাও সেতুঙয়ের একটা কথা আছে, বিপ্লব কোন ডিনার পার্টি নয়। জুলাইয়ে সেরকম কিছুই হয়নি, অনেক কম হয়েছে। সামনের দিনে কেউ যদি আবারও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে আবারও গণঅভ্যুত্থান করতে হতে পারে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিন্তাবিদ ও লেখক সলিমুল্লাহ খান বলেন, সংবিধান তো বারবার সংশোধন হয়েছে, অনেকে নতুন একটা সংবিধান নিতে ভয় পাচ্ছেন। মনে হচ্ছে সংবিধান নতুন করে করলে দেশ বঙ্গোপসাগরে পড়ে যাবে।
সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনাকে একসময় মৌলবাদীদের বিপ্লব বলে প্রচার করা হবে। অনেকে তালেবানের বিপ্লব বলছেন জুলাইকে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রসবোধ কম নয়, তিনি বলেছেন, আমার তো দাড়ি নেই তালেবানের সরকার কীভাবে হলাম। পৃথিবীর অন্যসব বিপ্লবের পর অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আমাদের জুলাইয়ের পর তো তেমন করে ঘটেনি। মব মব বলে যারা চিৎকার করছেন তারা আবার আমাকে হত্যাকারীকে উৎসাহিত করছি বইলেন না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গবেষক ও লেখক সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক কর্মীরা, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সংবাদকর্মীরা। সাংবাদিকরা ফ্যাসিস্টের পক্ষে লিখেছে বলেছে এমনটির সংখ্যা যেমন আছে, একটা বড় অংশ আছেন যারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেছেন। সেটি করতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক জাগরণের আশাবাদ তৈরি হয়েছে৷ দলগুলো বিভেদে জড়াচ্ছে৷ তবে আলোচনা ও ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে, সে রকম একটি দেশ দেখা যাচ্ছে৷ সামনের দিনে এটা বহাল থাকুক৷ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক পলিসির৷