বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সেবার মূল্য ও মান নিয়ে গণ শুনানি দাবি
বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট স্টার্লিংক সেবার মান ও মূল্য কত হবে এবং কিভাবে সেবা প্রদান করবে সে বিষয়ে সেবা চালুর পূর্বেই বাংলাদেশ টেলিযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে গণশুনানি অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছে গ্রাহক অধিকার নিয়ে কাজ করে যাওয়া সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বের সেরা ধন কুবের এবং সবচাইতে বড় প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক স্যাটেলাইট বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন জমা দিয়েছেন।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব সম্ভবত আগামী মাসেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করতে পারে। কিন্তু এই স্যাটেলাইট সেবার ধরন, মান, গ্রাহকের খরচের পরিমাণ, ব্যবহারের পরিমাণ (ডাটা লিমিট, স্প্রিড), সিগন্যাল ট্রান্সমিশন, ল্যাটেন সি, বিশেষ করে প্যাকেজ ও প্যাকেজের মূল্য এবং মেয়াদ কিভাবে নির্ধারিত হবে তা এখনো জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়।
সেবা চালুরে আগেই গণশুনানির যৌক্তিকতা তুলে ধরে মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে যখন এলএমজি আমদানি করার পরিকল্পনা সরকার ঠিক করে এবং লাইসেন্স প্রদান করে তার পূর্বেই এলএমজির মূল্য কত হবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন একটি গন শুনানি করে। আমরা সেই গোনো শুনানিতে আমাদের মতামত উপস্থাপন করে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সারা দেশবাসী বিষয়টি জানতে পারে। আর এভাবেই একটি জবাবদিহিমূলক সেবার মান ও মূল্য নির্ধারিত হতে পারে বলে আমরা মনে করি।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে ভুটানের তথ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে স্টারলিংকের মূল্য নির্ধারণ করেছে। 'রেসিডেনশিয়াল লাইট' প্যাকেজের মাসিক খরচ ৩ হাজার গুলট্রাম (প্রায় ৪ হাজার ২০০ বাংলাদেশি টাকা), যেখানে ইন্টারনেট গতি থাকবে ২৩ এমবিপিএস থেকে ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত। ' স্ট্যান্ডার্ড রেসিডেনশিয়াল' প্যাকেজের জন্য মাসে ৪ হাজার ২০০ গুলট্রাম (প্রায় ৫ হাজার ৮০০ টাকা) গুনতে হবে, যা ২৫ এমবিপিএস থেকে ১১০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতিসম্পন্ন।
‘কিন্তু ভুটানের যে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে তা বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের সাধ্য-সমর্থের প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি। আমরা সাধারণত লক্ষ্য করি মূল্য নির্ধারিত করা হয় পার্শ্বপ্রতি দেশের মূল্যের উপর। কিন্তু বাংলাদেশের কর হার আর অন্যান্য দেশের কর হার এক নয়। একইভাবে জনগণের সাধ্য সামর্থ্য এক নয়। সামাজিক অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক বিচার বিবেচনা নেওয়ার জন্য জনগণের কাছ থেকে মতামত নিতে গণ শুনানি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা তাই বিটিআরসির প্রতি আহ্বান জানাই এ বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত করুন। এ বিষয়ে আমরা দু-একদিনের মধ্যে কমিশনে একটি আবেদন জমা দান করব আশা করি’- যোগ করেন মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি।







