‘প্রযুক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছে’
বিগত ৫ বছরে আমি মায়ের সঙ্গে ছাড়া কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলিনি; বললে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কিছু ব্যবহার করতে হতো। কেন আমাকে ভাবতে হবে যে কেউ আমাকে নজরদারি করছে?
ধবার (১৪ আগস্ট) গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সংলাপে এমন প্রশ্ন রাখেন বেসিস’র প্রাক্তন সভাপতি ফাহিম মাশরুর। এসময় সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন বৈষম্য কমানো এবং জ্বালানী ও সাইবার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
কোটা সংস্কার আন্দলনের পেছনে ২০১৫ সালের পে-কমিশনকে দায়ী মন্তব্য করে বিডিজবস সহ-প্রতিষ্ঠাতা বললেন, ওই সময় সরকারি চাকুরীজীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করা হয়। কিন্তু বেসরকারি খাত তা করতে পারেনি। কেননা সরকার চাইলেই এসআরও জারি করে টাকা ছাপিয়ে এটা করতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীই এখন সরকারি চাকরি পেতে আগ্রহী। কিন্তু এটা বাস্তব সম্মত না। তাই এখানে একটা সংস্কার দরকার। সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন কমানো দরকার।
ফাহিম বলেছেন, আমাদের একটা প্রজন্ম প্রযুক্তি নিয়ে খুবই উৎসাহি ছিলো। তারা মনে করতো প্রযুক্তি স্বাধীনতা দেবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। ক্ষমতা মানুষের হাতে হাতে নিয়ে আসবে। কিন্তু এই ঘোর ভাঙতে আমাদের বেশি সময় লাগেনি। আমরা ১০-১২ বছরের মধ্যেই দেখলাম প্রযুক্তি জনমানুষের ক্ষমতায়নের বদলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করছে। স্বাধীনতাকে কেড়ে নিচ্ছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে আড়িপাতা প্রযুক্তি ব্যাবহার করে আমাদের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে প্রতিবছর ৮-১০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ (এমএফএস) করা হলেও এর একটা বড় অংশের যথাযথ ব্যবহার হয় না বলে আক্ষেপ করেন ফাহিম। তিনি বলেন, এভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ঠিক হলে ফলটাও অন্যভাবে আসবে।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি, রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্থরতা, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগে স্থবিরতার মতো সমস্যাগুলোর দ্রুত অবসান করতে হবে।

সংলাপে অংশ নেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিডি জবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ।
সংলাপে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারবে না। অর্থ লুটপাটের বিচার করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারকে শক্তপোক্ত করতে রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী দাবি করেন, এ সংবিধানে স্বৈরাচারী হওয়ার অনেক উপাদান আছে, এগুলো বাদ দিতে হবে। এগুলো রাজনৈতিক দলের হাতে ছেড়ে দিলে আমরা ব্লাকহোলে পড়ে যাব।
তিনি আরও দাবি করেন, ডিক্টেটোরিয়াল উপাদান বাদ দিতে হবে। স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে আলাদা করতে হবে। তার বক্তব্যের মাঝেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম মুসলিম চৌধুরীকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি সংবিধানের সংশোধন চাচ্ছেন নাকি নতুন করে লিখতে বলছেন।
এ প্রশ্নে বিব্রত হয়ে পড়েন মুসলিম চৌধুরী। জবাবে তিনি বলেন, এ সংবিধান সংশোধন সম্ভব না, এটাকে আবার লিখতে হবে।
এর ব্যাখ্যায় সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা তো এ রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েছি। তার মানে আমাদের সংবিধান এখনও আছে। এখন এটাকে বাদ দিবে নাকি সংস্কার করবে এটার সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ সরকারকে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ সরকারকে নতুন করে সংবিধান লিখে যেতে হবে, তারা হয়তো বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। তারা পরবর্তী সরকারের জন্য এ সংবিধান লিখে যেতে হবে যাতে তারা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব গড়ে তোলার নামে যে পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।







