‘টেলিকম সেবায় কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতি’
আসন্ন বাজেটে টেলিযোগাযোগ সেবায় কর বাড়ানো হলে তা ‘আত্মঘাতি’ হবে বলে উল্লেখ করেছেন খত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন উদ্যোগকে সরকারের ‘দ্বি-মুখী নীতি’ হিসেবে মন্তব্য করেছে। অপরদিকে টেলিকম অপারেটর বাংলালিংক জানিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত টেলিকম ব্যবসার স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
মুঠোফোনে কথা বলায় ব্যয় বাড়ছে শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশে এখনো ৫০ শতাংশ নাগরিক টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে করোনা মহামারী থাকায় ঘরে বসে যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকার ও অনলাইন সেবায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলছে সে সময় এই খাতে কর বৃদ্ধি একটি দ্বিমুখী নীতি। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অর্থাৎ আমাদের ভাইবার, ফেসবুক, টুইটার বিভিন্ন মাধ্যমে কথা বলছে। এই সকল অপারেটরদের সাথে সরকারের কোন চুক্তি না থাকায় সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারিয়েছে। আগামীতে কর বৃদ্ধি হলে এই সকল মাধ্যমের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। এতে করে একদিকে যেমন এ সকল প্রযুক্তি ব্যবহারের হলে অপারেরটরা ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি সরকারও বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাবে।”
কর বাড়ালে বাস্তবে শুধুমাত্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠি ও টু জি সেবা গ্রহণকারীদের ব্যয় বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, এমনিতেই গ্রাহকরা এখন সরকারকে সরাসরি ২৮ শতাংশ কর দিয়ে থাকে। তাছাড়া অপারেটরদের কর্পোরেট ট্যাক্স, সীম ট্যাক্স, উন্নয়ন ট্যাক্স, রাজস্ব ভাগাভাগি ও সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলসহ ১০০ টাকায় ৫৭ টাকা সরকারকে দিয়ে থাকে। যার ফলে অধিক সেবা ও মানসম্মত সেবা থেকে গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছে।
করনীতির কারণেই দেশে এই খাতে নতুন কোন বিনিয়োগ আসেনি উল্লেখ করে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে সেই সাথে ভারতীয় টেলিকম মার্জার করে চলে গেছে। আমাদের পরামর্শ কর হার কমিয়ে দেশের সেবাদানকারী অপারেটরদের এ, বি ও সি এই তিন ক্যাটাগরীতে ভাগ করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা নিতে। না হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিটক। অন্যদিকে গ্রাহকরা সাশ্রয়ী মূল্যের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
এ বিষয়ে রবি আজিয়েটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, “আমরা সরকারের কাছ থেকে মোবাইল সম্পর্কিত পরিষেবাগুলিতে সম্পূরক শুল্ক (এসডি) বৃদ্ধির বিষয়ে এখনও কোনও অফিসিয়াল অর্ডার পাইনি। বলাই বাহুল্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের ওপর বোঝা আরও বাড়িয়ে দেবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, গ্রাহকরা যে ১০০ টাকায় ব্যয় করেছেন তার মধ্যে বিভিন্ন ভাবে ৫৩ টাকা সরকারের কোষাগারে যাচ্ছে। এটাও লক্ষণীয় যে, ডিজিটাল যোগাযোগ করোনার মহামারীর সময়ে জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে; অতিরিক্ত এসডি আরোপ করা হলে তা বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।”
অপরদিকে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক-এর চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, "করোনা সংকটের কারণে এমনিতেই টেলিকম খাত এখন কঠিন সময় পার করছে, যা আমরা ইতোমধ্যেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে অবহিত করছি। মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েক মাসে অপারেটরদের আয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বাজেটে টেলিকম সেবার উপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসার স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তাছাড়া এই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে টেলিকম সেবার মূল্য বেড়ে গেলে গ্রাহকরাও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবেন। তীব্র সংকটের এই সময়ে টেলিকমের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এনবিআর-এ ইতোমধ্যেই বাজেট নিয়ে অপেরাটরদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, বিষয়গুলি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যাতে অপারেটরদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের স্বাৰ্থ সুরক্ষিত হয়।"