২০২১ রূপকল্প বাস্তবয়নের বছরে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য র্যালি দিয়ে শুরু আর কনসার্ট দিয়ে শেষ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপন। অবশ্য সবার আগে ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবস উদযাপন শুরু করবে আইসিটি বিভাগ। এরপর রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি ৭টি বিভাগীয় পর্যায়ে সমান্তরালে চলবে দিবস উদযাপনের সকল কার্যক্রম। এরমধ্যে প্রোগ্রামিং, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতাও থাকছে। আর সব শেষে স্থানীয় পর্যায়ে ১২টি এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২টিসহ মোট ২৪ বিভাগে দেয়া হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ জাতীয় পুরস্কার। দিনজুড়ে উদযাপন করা হবে স্বপ্ন পূরণের এক যুগ। মূল অনুষ্ঠানে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কউন্সিল মিলনায়তে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
দিবস উদযাপন নিয়ে তিনি আরো জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে ১০ ডিসেম্বর আয়োজিত অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা হবে সন্ধ্য ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। প্রতিযোগিতায় ২১ মিনিটে সর্বোচ্চ সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরস্কৃত করা হবে ২১ জনকে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ রাত ১২টা পর্যন্ত
এই লিংকে আবেদন করতে পারবে।
https://digibanglatech.news/news/event/65171/
এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক রেজাউল মানসুর জাহেদী এবং হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. বিকর্ন কুমার ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ লোগো উন্মোচন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করে আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এনএম জিয়াউল আলম। এসময় আইসিটি খাতের বাণিজ্য সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন উপকৃত সকল জনগণ’ প্রতিপাদ্যের যথার্থতা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এখন নিজের বাহন না থাকলেও রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে। প্রতারণা ও হয়রানির শিকার না হয়ে ১০ কোটিরও বেশি নাগরিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিবারের কোছে টাকা পাঠানোর পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন করতে পারছে।
‘এভাবে গ্রাম-শহর, নারী-পুরুষ ও নবীন-প্রবীনের সীমারেখা জয় করে দুর্নীতি, অপচয় এবং হয়রানি দূর করে স্বচ্ছতা, দ্রুততা নিশ্চিত করণের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে’- মন্তব্য করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শীতা এবং তাঁর আইসিটি উপদেষ্টার সৎ-দিকনির্দেশনার ফলে এখন রাজশাহীতে বসে একজন উদ্যোক্তা ইউরোপ-আমেরিকার মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে আউটসোর্সিং করে জেলা শহরেই ৭০০ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছে। গ্রামে বসেই একজন তরুণী ই-কমার্সের মাধ্যমে তার তৈরি পণ্য দেশ-বিদেশে বিক্রি করে আত্মকর্ম সংস্থানের পাশাপাশি পারিবারিক স্বচ্ছলতা এনে দেশে একটি ডিজিটাল ইকোনোমি গড়ে তুলতে অবদান রাখছে। এভাবেই দেশে সাড়ে ছয় লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসেই সাড়ে ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। করোনায় ১৭ কোটি মানুষ ডিজিটাল রূপান্তরের উপকার ভোগ করেছেন।
সব মিলিয়ে মাত্র ১২ বছরে ধারাবাহিক ভাবে মানব সম্পদ উন্নয়ন, সকলের কাছে সুলভে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া,ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের মধ্য দিয়ে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এখন বিশ্বে ‘অনুকরণীয়’ দৃষ্টান্ত বলে মত দেন বাংলাদেশে সরকারের প্রথম কনিষ্ঠ মন্ত্রী।